
এই খবরটি অনেক দেরিতে চোখে পড়লো। আশ্চর্য হলাম কিছু ইউটিউবারের বিদ্বেষ ও হিংস্রতা দেখে। ছি:
ঘটনা হচ্ছে, যে ছেলেটি তাঁর কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও যোগ্যতায় সোর্ড অব অনার পেল, তাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কুলাঙ্গার ইউটিউবাররা।
ছেলেটির বাবা আওয়ামী লীগের আমলে ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন , পাপ ও অপকর্মের দায় তাঁর নিজের। কিন্ত তাঁর দায় দিয়ে সন্তানের সাফল্যকে ম্লান করতে বিদেশে পলাতক ইউটিউবাররা উঠে পড়ে লেগেছে। বাবার দায় দিয়ে সন্তানকে কেন হেনস্তা করতে হবে?
চিন্তা করেন, এরা কত বড় জানোয়ার, অপদার্থ।
বাবা আওয়ামী লীগের দোসর ছিল, ঠিক আছে। আমাকে বলেন, সন্তানের এতে কি দায়?
বাবার কর্মফল দিয়ে সন্তান বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মূল্যায়ন করে সবাইকে শত্রু বানিয়ে দেশটাকে জাহান্নামে পরিনত করেছে এসব ইউটিউবরা। সাথে আছে মুর্খ অশিক্ষিত বিশাল সংখ্যক কুলাঙ্গার গোষ্ঠী । এরা জীবনেও বিসিএস বা আইএসবি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের যোগ্যতা ও মেধা রাখে না। ৫ আগস্টের পর তাদের হাতে দেশটা জিম্মি হয়ে গেছে। ঝাড়ু দিয়ে ঝেটিয়ে এদের হাত থেকে দেশ রক্ষা করতে হবে। কথা ক্লিয়ার ।
গত বছর কেন হয়নি বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ -এই নিয়ে গুজব ও এতিম লীগ তোলপাড় করে ফেলেছিল। তাদের সাথে সুর মিলিয়েছিল বিগত সময়ের সুবিধাভুগী সংস্কৃতিকর্মী, দলকানা সাংবাদিক ও চেতনা বেচে খাওয়ারা। কিন্ত গনভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের সর্বত্র বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি কিছুই ধর্তব্যের মধ্যে নেয়নি। একটা মন্তব্য করে সরকারকে এক হাত নেয়াই ছিল মুল লক্ষ্য।
ফ্যাসিনা পালিয়ে যাবার পর অপরিপক্ক একটি সরকার ক্ষমতায় এসে ধ্বংসস্তুপের ওপর বসেছে। তাদের প্রধান কাজ ছিল ভেঙে পড়া অর্থনীতির অবস্থা ঠিক করা, ব্যাংকগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন, পুলিশ বাহিনী পুন:গঠন, একের পর এক দাবী দাওয়া সামলানো, ফ্যাসিস্টদের গ্রেফতার ও বিচার কি হবে না হবে ইত্যাদি ।
এছাড়া আমলাদের অসহযোগিতায় সরকারের দৈনন্দিন কাজ কর্ম করাই দু:সাধ্য হয়ে পড়েছিল – এসব কারণে বিজয় দিবসের রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠান করতে পারেনি। এই বাস্তবতা চুদিয়ারা ভুলে গিয়ে সোল্লাসে বলছে, ‘এ সরকারের সব রাজাকার , এরা পাকিদের সন্তুষ্ট করতে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ করলো না।‘
বাস্তবতা না জেনে সবাই মিলে কত বড় মিথ্যাচার করলো, আর আমরা তা গোগ্রাসে গিলে ফেললাম। কেউ একবারও বাস্তবতা, পরিস্থিতি পরিবেশ অনুধাবন করলো না। কেউ একজন বলল, কান নিয়েছে চিলে, আমরাও ডান বায় না তাকিয়ে চিলের পিছু দৌড়ালাম।
রাস্ট্র পরিচালনায় এই অপরিপক্ক সরকার গত ১৫/১৬ মাসে অনেক কিছু সামাল দিতে পারেনি,অসংখ্য সমালোচনা আছে। সেই সব সমালোচনা করেছি মানে ধুয়ে দিয়েছি। ইতিবাচক দিক হল, সরকার তাদের সমালোচনার জন্য কন্ঠরোধ করেনি।
ইতোমধ্যে অনেক জল গড়িয়েছে। সরকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, এখন তারা নির্বাচনমুখি হয়েছে। একই সাথে এবারের বিজয় দিবস পূর্বের মতন উদযাপন করবে। প্যারেড গ্রাউন্ডে তিনবাহিনীর কুচকাওয়াজ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা নানান সামরিক যান চালনা করে দেখাবে।
বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ও বিজয় উদযাপন নিয়ে এবার গুজবলীগ ও ফ্যাসিবাদের দালালরা কি বলবে?
যারা ক্ষমতা হারিয়ে পাগল হয়ে গেছে, তারা চায়, দেশটা রাজাকাররা চালাক, যাতে বর্হিবিশ্বে বলতে পারে, দেখো, বলেছিলাম না দেশ তালেবান জংগী হয়েছে। তাদের কাছে দেশের চেয়ে ক্ষমতা যে বড়।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
