পোস্টপ্যাটার্ম ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় ওষুধ অনুমোদন

পোস্টপ্যাটার্ম ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো কোনো মুখে খাওয়ার ওষুধ অনুমোদন দিয়েছে হেলথ কানাডা

পোস্টপ্যাটার্ম ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো কোনো মুখে খাওয়ার ওষুধ অনুমোদন দিয়েছে হেলথ কানাডা। ‘জুরজুভায়ে’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত হওয়া এই ওষুধটির জেনেরিক নাম জুরানোলোন। এটি একটি বড়ি, যা প্রতিদিন একটি করে টানা ১৪ দিন সেবন করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধটি সেবনের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলো কমে আসতে শুরু করে, যা পোস্টপ্যাটার্ম ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

বায়োটেক প্রতিষ্ঠান বায়োজিনের তৈরি এই ওষুধটি ২০২৩ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ব্যবহারের অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নেও ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সর্বশেষ হেলথ কানাডার অনুমোদনের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকায় পোস্টপ্যাটার্ম ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় এটি একটি নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

- Advertisement -

হেলথ কানাডার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গর্ভকালীন বা সন্তান জন্মের পরবর্তী সময়ে প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজন ডিপ্রেশন বা উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভোগেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই মানসিক সমস্যার চিকিৎসায় দ্রুত কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধের অভাব ছিল।

টরন্টোর উইমেন’স কলেজ হসপিটালের সাইকিয়াট্রিস্ট এবং প্রজনন মানসিক স্বাস্থ্যের কানাডা রিসার্চ চেয়ার ড. ক্রিস্টাল ক্লার্ক বলেন, “মাঝারি থেকে গুরুতর পোস্টপ্যাটার্ম ডিপ্রেশনে ভোগা নারীদের জন্য জুরানোলোন অত্যন্ত আশাপ্রদ একটি ওষুধ। এখন পর্যন্ত সাধারণত নির্বাচিত সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (এসএসআরআই) শ্রেণির অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এসব ওষুধ দ্রুত কাজ করে না এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “যদিও আমাদের হাতে চিকিৎসার কিছু বিকল্প আগে থেকেই ছিল এবং সেগুলো অনেকের ক্ষেত্রে কার্যকরও হয়েছে, তবুও জুরানোলোনই প্রথম ওষুধ, যেটি মাত্র দুই সপ্তাহ সেবন করলেই হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই ইতিবাচক ফল দেখা যায়।”

জুরানোলোন মূলত অ্যালোপ্রেগনানোলোনের একটি সিন্থেটিক সংস্করণ। অ্যালোপ্রেগনানোলোন হলো প্রোজেস্টেরন হরমোনের একটি মেটাবোলাইট, যার মাত্রা গর্ভাবস্থায় উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করে। এই ওষুধটি মস্তিষ্কের গামা-অ্যামিনোবিউটারিক অ্যাসিড (গাবা) রিসেপ্টরের ওপর কাজ করে, যা মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে অন্যান্য ওষুধের মতো জুরানোলোনেরও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। হেলথ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ঝিমুনি, অতিরিক্ত ঘুম ভাব এবং মাথাব্যথা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধটি গ্রহণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকারিতা ও স্বল্পমেয়াদি সেবনের সুবিধার কারণে জুরানোলোন পোস্টপ্যাটার্ম ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং নতুন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

- Advertisement -

Read More

Recent