টরন্টোয় বাংলাদেশ সেন্টারে

টরন্টোয় বাংলাদেশ সেন্টারে

অনেক বছর আগে টরন্টোয় বাংলাদেশ সেন্টারে একক শিল্পীর পরিবেশনার অনুষ্ঠানে শিল্পী ছিলেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী নাহিদ কবির কাকলি। সেই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন গান নিয়ে আলোকপাত করেছিলেন ড. করুণাময় গোস্বামী। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন কাকলির বন্ধু আবৃত্তিশিল্পী মেরী রাশেদীন।

কাকলির কণ্ঠে পরিবেশিত রবীন্দ্রনাথের গান শুনে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ, আপ্লুত। সেই অনুষ্ঠানে দর্শক আসনের প্রথম সারিতে বসা শিল্পী চিত্রা সরকার। কাকলি একসময় গান পরিবেশনার মাঝখানে বললেন-‘ সামনে বসে আমার গান শুনছেন চিত্রাদি; এটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মান। আমার মাঝে মাঝে আপসোস হয় – আমি যদি চিত্রাদির মতো গাইতে পারতাম!’

- Advertisement -

কথাগুলো আমার কানে এখনো স্পষ্ট অনুরণন জাগায়। আমি শুনতে পাই, দেখতে পাই, গভীরভাবে অনুভব করি, এই সম্মান ও শিল্পীর প্রতি আরেক শিল্পীর সম্মান প্রদর্শনের বিরল এই যুগে এসব দৃশ্য সত্যিই অনন্যসাধারণ। আমি হলফ করে বলতে পারি, শুধুমাত্র বলার জন্য একথাগুলো বলা নয়। চিত্রাদিকে খুশি করার জন্যও কাকলি একথা বলেন নি। কেননা, কাকলির মধ্যে আজ পর্যন্ত আমি কোন ভনিতা দেখিনি। জন্মসূত্রেই কাকলি ভনিতা জানেন না। জীবনযাপনে তার কোনরকম ভনিতা নেই। অতএব, এটি কাকলির একদম গভীর বিশ্বাস ও বাসনার কথা।

গানের শিল্পী নিশ্চয়ই দিনরাত্রির চর্চা ও নিমগ্ন নিরলস সাধনায় নির্ভুল দক্ষতা ও কণ্ঠের নিয়ন্ত্রণ এনে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়াতে পারেন৷ বাহবা পেতে পারেন। নিজেরও আত্মতৃপ্তি হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত শিল্পী এগুলো ছাড়িয়েও আরো এক মহামূল্যবান পরশপাথরের রত্ন খুঁজে দিনরাত্রির অবিশ্রান্ত ধ্যানমগ্ন সাধনায় বিভোর থাকেন – সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশক্তির আঁধার মানুষকে ভজনা করা।

বাঙালি জাতিসত্তার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিচর্চার অগ্রভাগে থেকে আমাদেরকে চিত্রাদি প্রাণজাগানিয়া গান শোনান। বাঙালির চিরভাস্বর গৌরবকে সুরে সুরে আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে জ্বালিয়ে দেন আমাদের ভেতরে থাকা স্বয়ম্পুরা প্রেরণার আগুন! আমরা সবাই চিত্রাদির ভক্ত ও ভালোবাসার মানুষ। আজ চিত্রাদির জন্মদিন।

জন্মদিনে চিত্রাদির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। শুভ জন্মদিন দিদি!

- Advertisement -

Read More

Recent