চিঠি ১২১

চিঠি ১২১

আমাদের ভালোবাসা হলো না কেন? কোথায় কমতি ছিল? তোমাকে পাবার জন্য পকেট ভরে নিয়ে আসতাম লেবু পাতার সংগ্রহ, কেননা আমাদের কোনো ফুলগাছ ছিল না। ছাদের কার্নিশে বসে পা দুলিয়ে একে একে বুকপকেট থেকে ঘ্রাণ তুলে দিতাম তোমার হাতে। নিয়ম করে কানে গুঁজে দিতাম প্রথম পাতাটি। খুশি হবার কারুকাজ দেখতাম পাশাপাশি বসে। ঘ্রাণ মাখা রূপকথার প্লাবন ছাড়া একটি শব্দও উচ্চারিত হতো না আমাদের মাঝে। দূর থেকে ভেসে আসা গানের সুরে দুজনের গভীর মনোযোগ— ‘চোখ যে মনের কথা বলে’।

এরপর শুরু হতো ছেলেখেলা। পালা করে ছাদের ওপর থেকে পাতা ছুড়ে দেওয়া। ছন্দে ছন্দে যা নিচে নেমে যেত। বাতাসে বাতাসে হতো রুটিন আলিঙ্গন। অথচ কী আশ্চর্য! সঠিক সময়ে, মাটি স্পর্শ করলো না সবুজ বার্তা। কিঞ্চিৎ আত্মহত্যা, ডুবে মরা, নিখোঁজ সংবাদ – শুধু এতোটুকুই বলা হলো এক জীবনে। এমনকি তোমার ঠোঁটচাপা অম্লত্ব নিংড়ানোর কাম্যতা আজও অনাদরে শিকেয় তোলা।

- Advertisement -

বলছি, একবার ঘুরে এসো সময় নিয়ে। দেখবে,  কিছু নীরবতা আজও লেগে আছে কার্নিশে। কিছু ঝুলে আছে শূন্যে। কিছু গুঁজে রাখা চোখের আদরে।

শেষ করছি আজকের চিঠি। সাল উনিশো কত যেন,

—একদিন সরাসরি চলে এসেছিলাম তালগাছকে পাশ কাটিয়ে। পকেট ভরে নিয়ে এসেছিলাম লেবুগাছের বীজ। ভেবেছিলাম, এবার বৃক্ষরোপণ পালা। বৈশাখ থেকে চৈত্র—আজীবন ঘ্রাণের পরিকল্পনা। অথচ, সাড়ে ছয় আনা হৃদয়ক্ষরণ ছাড়া সেদিন কিছুই হলো না। হলুদ পাখির ডানাতে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলে।

আয় বৃষ্টি ঝেপে

বৃষ্টি আমার চোখে

বীজগুলো আজও শুকিয়ে আছে বুক পকেটে। বৃক্ষরোপণ সফল হলে কতবার টি.এস.সি. আসতে! কতবার সালাউদ্দিন টুটুলের ফুটবল যাদুকরী দেখতে গ্যালারিতে বসে, উষ্ণ আলিঙ্গনে।  আজকাল সেসব হিসেব করি না। শুধু বৃক্ষের ওপর তুষার পাঁজা দেখলে রূপকথা সবুজ হয়ে ওঠে। এমন দিনে পৃথিবীর সব বৃক্ষের নাম রেখে দেই—লেবু পাতা।

And on a day like this,

I name every tree in the world

Lemon Leaf.

- Advertisement -

Read More

Recent