এগলিন্টন এভিনিউ থেকে লেফট টার্ন

এগলিন্টন এভিনিউ থেকে লেফট টার্ন

প্রথমবার বাংলাদেশে যাবার ঠিক আগের দিন। অসতর্ক একটি লেফট টার্ন নিতেই পুলিশ হাতে ধরিয়ে দিলো লম্বা একখানা টিকেট। ২০১০ এর জুলাই মাসের ঘটনা। সেবার গরম পড়েছিলো বেশ। এগলিন্টন এভিনিউ থেকে লেফট টার্ন নিচ্ছিলাম ডন মিলস সাউথে যাবো বলে। গন্তব্য ইস্ট ইয়র্ক টাউন সেন্টার। ঢাকা যাবার আগে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। তাড়াহুড়োয় এগলিন্টনের টপ লেফট থেকে সোজা ডন মিলসের টপ রাইটে গাড়ি ঢুকিয়েছি। লিচু বাগানের মালির মতোই অফিসার ডান পাশে ওৎ পেতে ছিলেন। লিখলেন সুদৃশ্য ১১০ ডলারের টিকেট। সাথে ২ ডেমেরিট পয়েন্টস। কারণ লিখলেন, ইমপ্রোপার লেফট টার্ন।

টিকেটটা হাতে পেয়ে বেশ অস্থির লাগলো। সময় নেই হাতে। পরদিন ফ্লাইট। সালাম ভাইয়ের কথা মনে পড়লো। ফোন দিলাম। একটুও সময় নিলেন না। বললেন ড্যানফোর্থের কান্ট্রি স্টাইলে চলে আসতে। গিয়ে দেখি ফারুক ভাই আর সালাম ভাই গল্প করছেন। দেখা মাত্রই স্বভাবসুলভ হাসি দিলেন।

- Advertisement -

খুব বেশি চিন্তা হচ্ছে?

একটুতো হচ্ছেই। কালই ফ্লাইট। টাকার চেয়ে ডেমেরিট পয়েন্টস নিয়ে চিন্তাটা বেশি।

টিকেটটা দেখি।

টিকেটে এক নজর চোখ বুলিয়েই ছেড়ে দিলেন। বললেন, কোনো চিন্তা করবেন না। পেনাল্টি কতোটা কমবে বলতে পারছিনা এ মুহূর্তে। তবে নিশ্চিত থাকেন, পয়েন্ট বাঁচানো যাবে।

সেটি হলেই এনাফ। আমার প্রফেশনে ক্লিন ড্রাইভিং লাইসেন্স খুব জরুরি।

দশ মিনিট সময় আছে হাতে? একটু আমার অফিসে চলেন।

ফারুক ভাইকে বসিয়ে রেখে তাঁর অফিসে গেলাম। কিছু পেপারওয়ার্ক সারলেন। সস্নেহে বললেন, নিশ্চিন্তে ঘুরে আসুন দেশে। এবিষয়ে আর কিছু ভাবতে হবেনা।

আপনার ফি?

দেশ থেকে ঘুরে এসে দিলেই চলবে।

বললাম, দীর্ঘ সময়ের জন্য যাচ্ছি। উনি বললেন, যত দীর্ঘই হোক, আপনি ঘুরে আসুন। টাকাটা বের করতেই হাতটা সরিয়ে দিলেন।

“দেশে যাওয়ার সময় ক্যাশ হাতে রাখাই ভালো। এখন লাগবে না।”

সালাম ভাইয়ের সাথে দীর্ঘ আড্ডার সুযোগ কখনো হয়নি। বরাবরই হাই হ্যালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ  ছিলো। কিন্তু খুব স্পষ্টভাবে তাঁর স্নেহসুলভ দৃষ্টিটা দেখতে পেতাম। সর্বশেষ দেখা হয়েছিলো ড্যানফোর্থ-বার্চমাউন্টের টিম হর্টনসে। আবার সেই অমায়িক হাসি। ফর্সা পরিচ্ছন্ন অভিজাত শরীরে শিশুর সরল হাসি।

হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে খুব উদগ্রীব থাকতাম। অপেক্ষায় থাকতাম একটু সুখবরের। সুখবর পেয়েও ছিলাম। একটু একটু করে উন্নতি হচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎই নওশের ভাইয়ের পোস্টিং থেকে জানলাম ‘সালাম ভাই’ আর নেই।

বোবা ব্যাথাটা খুব তীব্র হয়ে বোবাই থেকে গেলো। চিৎকার করে কাঁদবার কিছু নেই। একজন মুক্তিযোদ্ধা। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। করোনায় কেড়ে নিলো প্রাণ। ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী প্রকৃতির অনুজৈবিক দুর্যোগে তাঁর এ মৃত্যু শহীদী মর্যাদার প্রয়াণ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিয় সালাম ভাই, ওপারে আপনি ভালো থাকুন। আল্লাহ আপনাকে বেহেশতের সুন্দরতম জায়গায় স্থান দান করুন।

 

ব্রাম্পটন, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent