
কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আরও ফ্লোর ক্রসিংয়ের সম্ভাবনা। গত সপ্তাহে অন্টারিওর এমপি মাইকেল মার কনজার্ভেটিভ ককাস ছেড়ে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার পর সোমবার এই ইঙ্গিত দিয়েছেন একজন ফেডারেল মন্ত্রী। বিরোধীদলীয় আরও কয়েকজন এমপি সরকারের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
সোমবার টরন্টোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হজসনের কাছে জানতে চাওয়া হয় বিরোধীদল থেকে আরও এমপি কি ফ্লোর ক্রস করে সরকারের পাশে দাঁড়াতে পারেন? উত্তরে তিনি বলেন, “লোকজন যোগাযোগ করেছেন। আমার কাছে অনেকেই খোঁজ নিচ্ছেন।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কনজার্ভেটিভ দলের বড়দিনের পার্টিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মাইকেল মার লিবারেলদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর ফলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লিবারেল সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে মাত্র একটি আসন দূরে অবস্থান করছিল।
মাইকেল মারকে লিবারেল দলে আনতে নিজের কোনো ভূমিকা ছিল কি না এমন প্রশ্নে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি টিম হজসন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মারের নির্বাচনী এলাকা মারখাম-ইউনিয়নভিল টরন্টোর উত্তরে অবস্থিত এবং এটি হজসনের নিজস্ব রাইডিং মারখাম-থর্নহিলের পাশেই অবস্থিত।
মার সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছিলেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে হজসন বিষয়টিকে নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন সাবেক ব্যবসায়ী এবং একজন বাস্তববাদী মানুষ। আমিও একজন সাবেক ব্যবসায়ী এবং বাস্তববাদী মানুষ। মাইকেল মারও একজন সাবেক ব্যবসায়ী এবং বাস্তববাদী মানুষ। আমাদের সবারই একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এখন সময় ঐক্যের, বিভক্তির নয়।” এ সময় তিনি মাইকেল মারকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান।
গত এপ্রিলের ফেডারেল নির্বাচনে গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাইডিং মারখাম-ইউনিয়নভিলে প্রায় এক হাজার ৯০০ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন মাইকেল মার। এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।
মারের এই দলবদল নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে দি কানাডিয়ান প্রেস তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে কনজার্ভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর গত সপ্তাহে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পর্দার আড়ালে দর-কষাকষির মাধ্যমে এমপিদের টানার চেষ্টা করছেন, যাতে তার সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে।
সব মিলিয়ে, মাইকেল মারের ফ্লোর ক্রসিং এবং জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসনের মন্তব্য ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামনে আরও এমপি দল বদল করেন কি না, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
