অটোয়ার পথে

অটোয়ার পথে

পাতা ঝরে যাচ্ছে। বাতাসের মৃদু ছোঁয়াতেই ডালের উপর থেকে একে একে নানান রঙের পাতাগুলো মাটিতে পড়তে থাকে।

এই সেই ,পাতা ঝরা বৃষ্টি!

- Advertisement -

প্রকৃতির এমন রূপ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না! এ যেন প্রকৃতির ইজেল এ,এক সৌন্দর্য আর বেদনার মিশেল একসাথে!

শরতের নরম আলোয় ঝরা পাতাগুলো বলে যায় জীবনের এক অনিবার্য সত্য! সবকিছুই একদিন বদলায়, একদিন ফুরিয়ে যায়।

জীবনের পথচলাও যেন ঠিক তেমনই। সময়ের স্রোতে আমরা সবাই ভাসি, কেউ কাছে আসে, কেউ দূরে সরে যায়।

কখনও নদী শান্ত, কখনও বিক্ষুব্ধ। কিন্তু যেভাবেই চলুক, জীবন থামে না। প্রতিটি দিন নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করে, আবার কোনো কোনো গল্প শেষও হয় নিঃশব্দে!

মাঝেমাঝে যখন খুব একা লাগে। ভিড়ের মাঝে থেকেও মনে হয়, “সকল লোকের মাঝে ব’সে

আমার নিজের মুদ্রাদোষে

আমি একা হতেছি আলাদা?”

প্রবল একাকিত্বের মুহূর্তে জীবনানন্দ দাশ যেন ছুঁয়ে যান হৃদয়ের উঠোন! তাঁর কবিতার কথাগুলো যেন নিজের ভেতরের নিঃসঙ্গতার প্রতিধ্বনি হয়ে বাজে।

এক অন‍্যরকম বোধ জন্ম নেয়!

প্রকৃতিতে পাতার এই ঝরে পড়া, মিশে যাওয়া, আবার নতুন করে ফুটে ওঠার চক্র যেন মানুষের মনকেও শেখায়, হারিয়ে যাওয়া মানেই শেষ নয়!

একা থাকা মানেই শূন্য নয়। বরং এই নিঃসঙ্গতাই কখনও হয়ে ওঠে আত্মার গভীরতার দরজা খুলে দেওয়ার পথ।

পাতা ঝরে, আবার কুঁড়ি আসে। ঋতু বদলায়, জীবনও তেমনি চলতে থাকে,নীরবে, ধীরে, কিন্তু অবিরাম!

হৃদয় শুধু জানে, এই চলার ভেতরেও একটুখানি আলো আছে,যা একাকিত্বের ভেতরেও আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

সামনে চলতে সাহস জোগায়! কানেকানে বলে যায়, আছি তো, এই যে যে চোখের আলোয়, মনের পাশে তুমুল করে!

রবি ঠাকুরের সেই গানের  সুরে সুরে বয়ে যাই!

পাতার মত!

বাতাসের মত,

সুরে, বেসুরে, আনন্দে, বিষাদে!

“যা আমার   সবার হেলাফেলা   যাচ্ছে ছড়াছড়ি

পুরোনো    ভাঙা দিনের ঢেলা,   তাই দিয়ে ঘর গড়ি।

ভাঙারে   জোড়া দেবে সে   কিসের মন্তরে॥

খেলাঘর     বাঁধতে লেগেছি   আমার   মনের ভিতরে।

কত রাত   তাই তো জেগেছি   বলব কী তোরে॥”

আবারও বলি,

বেঁচে থাকা আসলেই দারুণ ব্যাপার !

শুধুমাত্র বেঁচে থাকলে কত কী যে সম্ভব!

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent