
টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলিশন প্রযুক্তি সম্মেলনের শেষ আসর। আয়োজক সংস্থা ওয়েব সামিট জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে কানাডার ভ্যানকুভারে আয়োজন করা হবে তাদের নতুন নর্থ আমেরিকান ফ্ল্যাগশিপ প্রযুক্তি ইভেন্ট।
ওয়েব সামিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ওয়েব সামিট ভ্যানকুভার’ নামের এই নতুন সম্মেলনটি টরন্টোর জনপ্রিয় প্রযুক্তি সম্মেলন কলিশনের জায়গা নেবে। গত কয়েক বছরে কলিশন উত্তর আমেরিকার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি আয়োজন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। নতুন এই আয়োজনের মধ্য দিয়েও বৈশ্বিক প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমকে সংযুক্ত ও সহায়তা করার লক্ষ্যে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০১৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল কলিশন সম্মেলন। এই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপ, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ছিল। ওয়েব সামিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৩ সালে টরন্টোতে সরাসরি (স্বশরীর) অনুষ্ঠিত কলিশন সম্মেলন শহরটির অর্থনীতিতে মোট ১৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার অবদান রেখেছে। তবে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে সম্মেলনটি অনলাইনে আয়োজন করা হয়।
এ বছর অনুষ্ঠিত হতে চলা কলিশন সম্মেলনও টরন্টোর অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়েব সামিট জানিয়েছে, এবারের আয়োজন থেকে টরন্টোর অর্থনীতিতে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রভাব পড়তে পারে। সম্মেলনে বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশ থেকে ৪০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।
গত কয়েক বছরে কলিশন সম্মেলনের মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং হলিউড অভিনেতা ও ক্যানাবিস উদ্যোক্তা সেথ রোজেন।
ওয়েব সামিটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্যাডি কসগ্রেভ বলেন, “কলিশনকে ওয়েব সামিটে রূপান্তরের সময় এসে গেছে। টরন্টোতে আমরা অসাধারণ সময় কাটিয়েছি এবং এখানকার প্রযুক্তি কমিউনিটির কাছ থেকে ব্যাপক সহযোগিতা পেয়েছি। এখন ভ্যানকুভারের মাধ্যমে আমরা আমাদের কানাডিয়ান যাত্রা আরও বিস্তৃত করতে চাই।”
ভ্যানকুভারে নতুন এই প্রযুক্তি সম্মেলন আয়োজনের পেছনে শহরটির দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাতকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়েব সামিট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গেমিং, ক্লিন টেক এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতিতে ভ্যানকুভারের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ভবিষ্যতের এই আয়োজনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে, টরন্টোর সঙ্গে কলিশনের দীর্ঘ পথচলার ইতি টানলেও, ভ্যানকুভারকে কেন্দ্র করে ওয়েব সামিটের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে যা উত্তর আমেরিকার প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
