
ক্ষুধা যে কখনো কখনো অবিশ্বাস্য রূপ নিতে পারে, তারই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ উঠে এসেছে উবার ইটস কানাডার সাম্প্রতিক তথ্যে। টরন্টোর এক বাসিন্দা একবার উবার ইটসের মাধ্যমে ৬ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের বার্গার ও ফ্রাই অর্ডার করেছিলেন। গত এক দশকে কানাডায় উবার ইটসের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাবার ডেলিভারি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে অর্ডারটি ঠিক কোন রেস্তোরাঁ থেকে দেওয়া হয়েছিল বা কোন তারিখে এই অস্বাভাবিক অর্ডারটি করা হয়েছিল সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি উবার ইটস কানাডা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের ২০২৫ ‘ক্র্যাভিংস রিপোর্ট’-এ শুধু উল্লেখ করা হয়েছে, এই অর্ডারটি গত ১০ বছরে টরন্টোবাসীদের খাবারের অভ্যাসের একটি চমকপ্রদ দিক তুলে ধরে।
উবার ইটসের ইতিহাসেও টরন্টোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপটি প্রথম চালু হয় এই শহরেই। এর মাধ্যমে কুরিয়ারের সাহায্যে খাবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে প্রথম পরীক্ষামূলক নগরীতে পরিণত হয় টরন্টো। শুরুর দিকে মাত্র ৮০ থেকে ১০০টি রেস্তোরাঁ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল উবার ইটস। এক দশক পর এসে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে উবার ইটস কানাডার কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে ৪০০টিরও বেশি কানাডিয়ান শহরে, যেখানে যুক্ত রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ী।
উবার ইটস কানাডার মহাব্যবস্থাপক লোলা কাসিম জানান, টরন্টোকেই কেন পরীক্ষার মাঠ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, তার পেছনে ছিল স্পষ্ট কারণ। তার ভাষায়, “টরন্টোর একটি সুনাম আছে এখানে যা কাজ করবে, তা প্রায় সব জায়গাতেই কাজ করবে। বিশেষ করে উবার ইটসের মতো একটি পণ্যের ক্ষেত্রে আমরা এমন একটি বড় শহরে আছি, যেখানে শক্তিশালী রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি রয়েছে। এখানে এমন ভোক্তারা আছেন, যারা নতুন স্বাদের খাবার চেষ্টা করতে আগ্রহী। পাশাপাশি ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুক মানুষের সংখ্যাও অনেক বেশি। এসব কারণেই টরন্টো আমাদের জন্য একটি সত্যিকারের পরীক্ষা রুট এবং লঞ্চপ্যাড হয়ে উঠেছিল।”
উবার ইটস কানাডার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে টরন্টোবাসীরা অ্যাপটির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ খাবার অর্ডার করেছেন। এই সময়ের মধ্যে – প্রায় ৭০ লাখ কলা, ২ কোটি ৮০ লাখ ফ্রাই এবং প্রায় ৩ কোটি বার্গার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ধ্রুপদী কানাডিয়ান খাবারের চাহিদাও ছিল চোখে পড়ার মতো। পুটিন, কেচাপ চিপস, নানাইমো বার, সিজার এবং বাটার টার্টস এই জনপ্রিয় খাবারগুলো মিলিয়ে গত এক দশকে প্রায় ৮০ লাখ বার অর্ডার করা হয়েছে।
ক্র্যাভিংস রিপোর্টে আরও উঠে এসেছে কানাডিয়ানদের খাবারের রুচির পরিবর্তনের চিত্র। ২০১৬ সালে উবার ইটসে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় শীর্ষে ছিল বার্গার, টাকো কিংবা থাই খাবার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পছন্দে এসেছে বড় পরিবর্তন। বর্তমানে কানাডিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বুরিটো বোলস, চিকেন ও রাইস, কিংবা বাগেলস।
৬ হাজার ডলারের বার্গার ও ফ্রাইয়ের অর্ডার নিছক একটি অদ্ভুত ঘটনা হলেও, উবার ইটসের এই প্রতিবেদন মূলত টরন্টো এবং সামগ্রিকভাবে কানাডার বদলে যাওয়া খাদ্যসংস্কৃতির প্রতিফলন। প্রযুক্তি, দ্রুত জীবনযাত্রা এবং নতুন স্বাদের প্রতি আগ্রহ সব মিলিয়ে খাবার অর্ডারের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি উবার ইটসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো শহুরে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
