
মানিটোবা প্রদেশে ধর্মীয় উপাসনালয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্থাপনায় সাম্প্রতিক ভাঙচুর ও বিদ্বেষমূলক প্রতীকের ব্যবহারকে গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপত্তা জোরদারে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রাদেশিক সরকার। এই তহবিলের আওতায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা, সিনাগগসহ বিভিন্ন উপাসনালয় সিসিটিভি ক্যামেরা, অ্যালার্ম সিস্টেম এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থ সহায়তা পাবে।
প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, ফেডারেল সরকারের বিদ্যমান একটি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আদলেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সহায়তার লক্ষ্য হলো ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধের ঝুঁকিতে থাকা স্থাপনাগুলোকে দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনা।
এই কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে মানিটোবার প্রিমিয়ার ওয়াব কিনিউ বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, উপাসনালয়গুলোকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তাও দেওয়া হবে। এ কাজে যুক্ত থাকবেন উইনিপেগ পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা ডেভ দালাল, যিনি দীর্ঘদিন নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা প্রয়োজন মূল্যায়ন করা হবে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই উইনিপেগে একাধিক স্থাপনায় বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা সামনে আসে। একটি মসজিদ, একটি সিনাগগ এবং একটি হাইস্কুলের দেয়ালে স্বস্তিকা ও অন্যান্য ঘৃণামূলক প্রতীক স্প্রে-পেইন্ট করার অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি পৃথক আরেকটি ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখানে হুমকিস্বরূপ বার্তাও লেখা হয়। এসব ঘটনার পর প্রদেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সরকার জানিয়েছে, সহায়তা কর্মসূচির আবেদন ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে আবেদনকারীর জরুরি প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত মূল্যায়নের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ সরবরাহ করা হবে। এতে উপাসনালয়গুলো দেরি না করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
উইনিপেগের শ্যারেই জেদেক সিনাগগে এই ঘোষণা দেন প্রিমিয়ার ওয়াব কিনিউ যেটিও সাম্প্রতিক ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাস্তবতা হলো এই মুহূর্তে মানুষকে নিরাপদ রাখতে আমাদের অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। ধর্মীয় বিশ্বাস বা পরিচয়ের কারণে কেউ যেন ভয় অনুভব না করে, সেটিই আমাদের দায়িত্ব।”
প্রাদেশিক সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক ঘটনার প্রেক্ষাপটে এমন সমন্বিত নিরাপত্তা সহায়তা সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
