দিল্লী এবং পিন্ডির দাসত্ব মুক্তিই বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন

প্রত‍্যেকের নিজস্ব চিন্তা দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে যারা নিজেকে অনেক জ্ঞানী মনে করে আমি তাদের দলভুক্ত নই

প্রত‍্যেকের নিজস্ব চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। যারা নিজেকে অনেক জ্ঞানী মনে করে আমি তাদের দলভুক্ত নই। তবে জামাত আর ইসলাম যে এক না কোনমতে এটুকু বুঝতে পারি। এও জানি, প্রোফেট বাদে সব মানুষ কিয়ামতের দিন ইয়া নফসি ইয়া নফসি করতে থাকবে। কিছু বাংলাদেশী মানুষ হয়তো আলাদা কাতারের হবে। তাদের হিসাব সম্ভবত আলাদা হবে, তাদের নিজেদের বেহেশতে যাওয়া কনফার্ম, অন‍্যদেরটাও কনফার্ম করতে চায়। আমার জ্ঞানের পরিধি অতদূর যায় না। পৃথিবীর কোন গনতন্ত্রকি সভ্য দেশে, এমনকি কোন সংখ‍্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে মানুষ এমন করে ভাবতে পারে, আমার জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা, আপনারা কেউ কেউ হয়তো লক্ষ‍্য করে থাকবেন তখন কিছু শিবির কর্মী নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে লজ্জা পেতো। তখনো ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলের রাজনীতি জনপ্রিয়তা পায়নি। হবে হয়তো, অন‍্যরা রাজাকার ভাববে এই লজ্জায়। হাসিনা বিরোধী আন্দোলন জামাত শিবিরকে লজ্জা মুক্তির নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বিএনপির লুঙ্গির নীচ থেকে অনেক জামায়াত ইদানীং উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। অনেকে ইতিমধ্যে বের হয়ে এসেছে। অনেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে অপেক্ষা করছে।

- Advertisement -

নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় জামাতকেও দেখেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় বামপন্থীদের দখলে ছিলো, পরে মধ‍্যপন্হা এখন ডানপন্হার দখলে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ফল স্বরূপ ডানপন্হার উত্থান হয়েছে। এটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে, ইতিহাস তা বলে না। ফ্রিডম পার্টির জন্মের এক সপ্তাহের মধ‍্যে একশোর বেশী জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস পুড়িয়ে দিয়েছিল। এই প্রজন্ম হয়তো পার্টির নামটাও জানে না। কয়েক বছর আগে শাহবাগ আন্দোলন হয়েছিলো। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনরাই সেই আন্দোলনে ব‍্যাপকভাবে অংশ নিয়েছে। তখন ডাকসু হলে শিবির জিততে পারতো না। শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন শিবির ক্যাশ করতে পেরেছে। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্হায়ী রূপ এমনটা বলা যাবে না। মাত্র কয় বছর আগে ভিপি নূর জিতেছিল। সময় বদলে দেয় অনেক কিছু। রাজনীতি অনেক কঠিন বিষয় বলেই আমার মনে হয়।

ধর্ম নিয়ে জামাত মানুষের সাথে মুনাফিকি করছে। আমার কথা না, অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ বলছেন। একটা গল্প বলি, উইথ ডিউ রেসপেক্ট, একটা প্রাইমারি টীচার খুব গর্ব ভরে থানার দারোগাকে বলছেন উনি ঘুস দুর্নীতি করেন না। থানার দালালের ছেলে স‍্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে। দালাল দারোগাকে বলছে, স‍্যার উনার বাসায় ইউনিসেফের খাতা পেন্সিল দেখেছি। দারোগা টীচারকে ধরলেন, খাতা পেন্সিল কেন নিয়েছেন। টীচার উত্তর দিলেন ওটা তো ফ্রির জিনিস, তাই নিতে তো কোন অসুবিধা নাই। দুর্নীতির কনসেপ্ট যায়গা ভেদে ভিন্ন ভাবে কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে আমার একজন সহপাঠী বন্ধু বলেছিল, আমরা চরিত্রবান, কারন আমরা প্রেম করার সুযোগ পাইনি। কথাটা মাঝে মাঝে মনে পড়ে।

সত‍তা মানসিক সৌন্দর্যের বাহ‍্যিক প্রকাশ। সবাই মানসিক সৌন্দর্যের অধিকারী হয় না। একজন কতটা নীতিবান হবেন সেটা মানসিক সততার উপর নির্ভর করে। যে কখনো সততার পরীক্ষা দেয়নি সে নিজেকে খুব সহজে সৎ ভাবতে পারে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় জামাত কোন পরীক্ষিত দল না। তারা নিজেদের ম‍্যানুফেষ্টো করেছিল, আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই। জামাত সদস্য হতে প্রাকটিসিং মুসলিম হতে হতো। তারা এবারের নির্বাচনে যাত্রা শুরু করেছিল একবাক্স পলিসি নিয়ে যার মূল লক্ষ্যই ছিলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট। সম্প্রতি শরীয়াহ আইনের বিষয়ে সংস্কার করেছে। চেষ্টা করছে ধর্মীয় রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার। জামাতের গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের রূপান্তরের চেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।

ভাসানীর নামের সাথে মওলানা ছিল। উনি কি ছিলেন সবাই জানে। মানুষ এখনো শ্রদ্ধাভরে নামটা ষ্মরণ করে। গোলাম আজমকে ইতিহাস কিভাবে মূল্যায়ন করবে সেটা আমার বলায় কিছু যায় আসে না। নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের উচিত হবে অতি দ্রুত শরিয়াহর ব্যাপারে তার অবস্থান স্পষ্ট করে জনগণকে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘ইনফর্মড ডিসিশন’ নিতে সাহায্য করা। যে ভোটের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ হবে ভাসানীর দিল্লী আর পিন্ডির দাসত্ব মুক্ত নতুন বাংলাদেশ।

- Advertisement -

Read More

Recent