
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার পর অবশেষে চালু হতে হলো টরন্টোর বহুল আলোচিত এগলিন্টন ক্রসটাউন এলআরটি ব্যবস্থা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এটি যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও অন্টারিও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্যে উদ্বোধনের তারিখটি কার্যত প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
সোমবার কুইন’স পার্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড কথার ফাঁকে এলআরটির সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখটি উল্লেখ করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, টিটিসি–এর কর্মকর্তারা তাকে ৮ ফেব্রুয়ারিকে উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে জানিয়েছেন।
প্রিমিয়ার ফোর্ড বলেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, অবশেষে এটি উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কাজটি শেষের দিকে। এটি যে সম্পন্ন হয়েছে, তাতে আমি সত্যিই খুশি।” একই সঙ্গে তিনি প্রকল্পটির দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও অকপটে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “আমি স্বীকার করছি আমাদের জন্য এটি ছিল একেবারে দুঃস্বপ্নের মতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি দারুণ কিছু হতে যাচ্ছে।”
এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র সোমবার রাতে টরন্টো সান–কে সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখটি নিশ্চিত করে। সূত্রটি জানায়, এলআরটি ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করার প্রস্তুতিই নেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
উদ্বোধনের তারিখ নিয়ে নিশ্চিত তথ্য জানতে মেট্রোলিংক্স–এর কাছে ইমেইল পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে টিটিসি জানিয়েছে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
টিটিসির মুখপাত্র স্টুয়ার্ট গ্রিন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, “উদ্বোধনী তারিখ নির্ধারণে টিটিসি ও মেট্রোলিংক্স একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে উপযুক্ত সময়েই তারিখ ঘোষণা করা হবে।” তবে উদ্বোধনের আগে কী কী নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা শর্ত পূরণ করতে হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, টরন্টো নগরীর পশ্চিম প্রান্তের মাউন্ট ডেনিস থেকে পূর্ব প্রান্তের কেনেডি স্টেশন পর্যন্ত সংযোগকারী এই এলআরটি প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯ কিলোমিটার। ২০০৯ সালে তহবিল অনুমোদনের পর থেকেই প্রকল্পটি নানা প্রশাসনিক, কারিগরি ও সময়সূচিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ২০১১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও বারবার বিলম্বে প্রকল্পটি নগরবাসীর মধ্যে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সম্পূর্ণ চালু হলে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনে থাকবে ২৫টি স্টপেজ, যা টরন্টোর গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এলআরটির যাত্রা শুরু হলে শহরের পূর্ব–পশ্চিম যোগাযোগে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
