ইচ্ছা হলে ভাবতেও পারেন…

আমার জন্ম ব্রহ্মপুত্রের ধারে সবুজে ঘেরা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিত্তশালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে

আমার জন্ম ব্রহ্মপুত্রের ধারে, সবুজে ঘেরা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিত্তশালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ছোটবেলার মহান একুশের প্রভাত ফেরী, ফুল হাতে খালি পায়ে হেটে হেটে ‘আমার ভাই এর রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি ‘,  এখোনো অনেক টানে। নদীর পাড়ে পহেলা বৈশাখ, কত কবিতা কত গান। ছোটবেলায় নাচ শিখতাম, আমি তিথি আপা,  লুবনা আপা, জগা স্যারের কাছে। সবচেয়ে ছোট ছিলাম দেখে সবাই কত যে স্নেহ করতেন। সেই নাচের তাল এখনো অনেক টানে। আম্মাকে দেখতাম এই রান্না করছে, বাগান করছে, সেলাই করছে, আবার লেডিস ক্লাবের ‘চিত্রাঙ্গদা’ র রিহার্সেল আয়োজন করছে। নামাজ রোজাও হতো ঠিকঠাক।

তখন শবেবরাতও ছিল একটা উৎসব। রুটি হালুয়া নিতে ফকিরদের ভীড় জমতো। বাসায় বাসায় হালুয়ার প্লেটের আনাগোনা। এমনো হয়েছে সারা রাত ১০০ রাকাত নামাজ পড়ে দোয়া করার আগেই ঘুমিয়ে গেছি, সকালে সে কি মন খারাপ। এখন জানি এইগুলো বিদাত, ঠিক আছে,  মেনে নিয়েছি,হালুয়ার ঘ্রাণ এখন মিনা বাজারের প্যাকেটে বন্দি। তখন এত স্কলার ছিলেন না, ছিলনা ইন্টারনেটে ধর্মের নানা বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ। কিন্তু  ছিল মিলাদের শেষে গোলাপজলের ছিটানো পানি গায়ে পড়ার অপেক্ষা আর তার  সুঘ্রাণ।

- Advertisement -

প্যাকেটের মিষ্টির রস আর সিঙ্গারা মিলে মিশে যে অমৃত স্বাদ, বিদাতকে ম্লান করে দেয়। কিন্তু সব বিদাতকে হার মানিয়ে ইদানিং যা শুরু হয়েছে, মেয়ে হিসেবে জন্ম নিয়ে অনেক বেশী আত্মসন্মানে লাগছে। তার চেয়েও বেশী কষ্ট দিচ্ছে এই  শিক্ষিত ষাড়দের বিদাতি আস্ফালন আর তাদের ছোট্ট মগজের  বিকট বেহেশতি হুংকারে। দেশটা কি পরিমাণ পেছনে হাটছে, ভাবলেও কান্না পায়। তখন আম্মা চাচীরা কি সুন্দর শাড়ী পড়তেন,  কত ফ্যাশন করতেন, কখনও শুনি নি ‘ কি পড়েছে’। কখনও জাত গেল জাত গেল রব উঠেনি। তখনও ধর্মের নাম ইসলাম ছিল, মুসলিম ছিলাম, এখনো আছি। যুগে যুগে শিখেছি মেয়েদেরকে নিজেদের পায়ে দাড়াতে হবে, মেয়েদের শিক্ষায় দীক্ষায় এগিয়ে যেতে হবে অনেকদূর।

এখন শুনি কোনো এক শিক্ষিত মেয়ে বলছে, নিজেকে মুড়িয়ে ফেল, গালিগালাজ গায়ে লাগবেনা। সত্যিই মেয়ে, কি বেহায়া বেশরম আর আত্মসন্মানহীন মগজে বেড়ে উঠেছো। তোমার দোষ নেই, সুন্দর উদার শিক্ষিত পরিবেশে হয়তো বড় হও নি, অথবা পাওনি গ্রামের উদার খেটে খাওয়া কৃষক বাবা মা, যে স্বপ্ন দেখে একদিন তুমি প্লেন চালাবে, তাই নিজেকে পণ্য ভাবতেও তোমার কোনো দ্বিধা কাজ করেনা। নিজেকে কাপড়ে মোড়ানো বস্তু মনে করে ভাবছো এইজন্যই দুনিয়াতে এসেছো। পরকালে  বে্‌হেশতের ৭০ হুরের লিস্টেও জায়গা পাবে কিনা, এই মগজে ভাবতে পারবা কিনা জানিনা।

আগে দুনিয়াটা সুন্দর কর, পরে না আখিরাত। সুন্দর একটা ধর্মকে যে কদাকার কুৎসিত বানানো হচ্ছে, দুনিয়া আখিরাত দুইটাই যায় কিনা ভাবছি।

- Advertisement -

Read More

Recent