
কানাডার আবাসন বাজারে দীর্ঘ সময়ের ঊর্ধ্বগতির পর এখন স্পষ্টভাবে ভিন্ন এক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটিতে দাবিকৃত গড় বাড়ি ভাড়া আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৭ ডলারে। এর মাধ্যমে টানা ১৬তম মাসের মতো ভাড়া হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকল।
রেন্টালসডটসিএ ও আরবানেশন যৌথভাবে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জানুয়ারিতে গত ৩১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বাড়ি ভাড়া। দুই বছর আগের তুলনায় গড় ভাড়া কমেছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান ভাড়া এখনও ১২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ সাম্প্রতিক পতন সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদে ভাড়ার স্তর এখনও তুলনামূলক উঁচুতেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভাড়ার এই ধারাবাহিক পতন ভাড়াটিয়াদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। জানুয়ারিতে ভাড়া ও আয়ের অনুপাত ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা ছয় বছরের মধ্যে প্রথম। সাধারণভাবে ৩০ শতাংশকে আবাসন ব্যয়ের একটি গ্রহণযোগ্য সীমা হিসেবে ধরা হয়। ফলে আয়-ভাড়া ভারসাম্যে উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে।
আরবানেশনের প্রেসিডেন্ট শন হিল্ডেব্র্যান্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কানাডার ভাড়াটিয়াদের ক্রয়ক্ষমতায় অর্থপূর্ণ উন্নতি হয়েছে। তাঁর মতে, সরবরাহ বৃদ্ধি খরচ কমিয়ে আনে এটি তারই বাস্তব প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, চলতি বছর বাজারে নতুন করে আরও বেশি ভাড়াটিয়া আকৃষ্ট হতে পারে, যদিও জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারিতে কন্ডো ইউনিটের প্রস্তাবিত ভাড়া ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৩ ডলারে। হাউজ ও টাউনহাউজের ভাড়া ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে হয়েছে ২ হাজার ৭৮ ডলার। অন্যদিকে পারপাস-বিল্ট ইউনিটের ভাড়া ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২ হাজার ৪৯ ডলারে স্থির হয়েছে। অর্থাৎ সব ধরনের আবাসনেই ভাড়ার নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, তবে কন্ডো সেগমেন্টে পতন তুলনামূলক বেশি।
প্রদেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায়, যেখানে ভাড়া কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে আলবার্টা (৪ দশমিক ৩ শতাংশ), অন্টারিও (৩ দশমিক ৩ শতাংশ) এবং কুইবেক (২ দশমিক ৬ শতাংশ)। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, উচ্চ ভাড়ার প্রদেশগুলোতেই সংশোধন তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে।
কানাডার বৃহৎ ছয়টি নগরীতেই জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত ভাড়া কমেছে। ভ্যানকুভারে ভাড়া ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩০ ডলারে, যা বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পতন। ক্যালগেরিতে ভাড়া ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৮১৫ ডলার। টরন্টোতে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯৫ ডলারে। এছাড়া অটোয়ায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, মন্ট্রিয়লে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এডমন্টনে ২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে ভাড়া কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হারজনিত ক্রয়ক্ষমতার চাপ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে আসা এই তিনটি প্রধান কারণ ভাড়া কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সুদের হার কমে গেলে এবং অভিবাসন প্রবাহ আবার বাড়লে বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কানাডার ভাড়াবাজারে এখন একটি সাময়িক স্বস্তির সময় চলছে। ভাড়াটিয়াদের জন্য এটি কিছুটা ইতিবাচক সংকেত হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বাজার কোন দিকে মোড় নেয় তা নির্ভর করবে সরবরাহ, সুদের হার এবং জনসংখ্যা প্রবণতার ওপর।
