
কানাডায় ২০২৫ সালে ঋণ পরিশোধে অক্ষম ভোক্তার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব ব্যাংকরাপ্টসি কার্যালয়ের সর্বশেষ সংকলিত উপাত্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের চাপের প্রভাব এখনো পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে নড়বড়ে করে রেখেছে।
ওএসবি’র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৫৭ জন ভোক্তা ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়েছেন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কয়েক হাজার নতুন ব্যক্তি দেউলিয়াত্ব বা ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছেন।
কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ইনসলভেন্সি অ্যান্ড রিস্ট্রাকচারিং প্রফেশনালস (সিএআইআরপি) জানিয়েছে, ১৯৮৭ সালে ওএসবি দেউলিয়াত্বের তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর থেকে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পর এটাই সর্বোচ্চ ভোক্তা দেউলিয়াত্বের হার বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
সিএআইআরপি’র ভাইস-চেয়ার এবং সনদধারী ইনসলভেন্সি ট্রাস্টি ওয়েসলি কাউয়ান বলেছেন, “গত কয়েক বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ঋণের ওপর উচ্চ সুদের হার মিলিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার সামগ্রিক প্রভাব এখনো অনেক পরিবার টের পাচ্ছে।” তার মতে, মহামারী-পরবর্তী সময়ে সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে অনেক পরিবার কিছুটা সময় টিকে থাকলেও, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ধারাবাহিক সুদের চাপ শেষ পর্যন্ত তাদের আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট করেছে। বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ এবং বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে অনেকে হিমশিম খাচ্ছেন।
প্রদেশভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ঋণ পরিশোধে অক্ষম ভোক্তার সংখ্যা প্রত্যেক বছর ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ শতাংশ এবং প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডে বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, আবাসন ব্যয়ের চাপ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং আয় বৃদ্ধির ধীরগতি এসব কারণ এসব অঞ্চলে ভোক্তাদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলেছে।
তবে ভোক্তা দেউলিয়াত্ব বৃদ্ধির বিপরীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। ২০২৫ সালে ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৪০টিতে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৮৮।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারী-পরবর্তী পুনরুদ্ধার, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু খাতে সরকারি সহায়তা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণ পুনর্গঠন ও ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক অবস্থান স্থিতিশীল করেছে।
২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান কানাডার অর্থনীতিতে এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ব্যবসা খাতে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ, অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ে আর্থিক চাপের বৃদ্ধি। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি সুদের হার ধীরে ধীরে কমে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে আগামী বছরগুলোতে ভোক্তা দেউলিয়াত্বের হার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে পরিবারগুলোর আর্থিক সহনশীলতা এখনো চাপে রয়েছে এবং অর্থনীতির পূর্ণ স্থিতিশীলতায় সময় লাগতে পারে।
