ভিমরুলের চাক

প্রতীকি ছবি দীপক সূত্রধর

চেম্বারে রোগী দেখা প্রায় শেষ এমন সময় ইন্টারকমে রিসেপশনিস্ট জানালো,এইমাত্র নতুন একজন রোগী এসেছে। আগে তার সিরিয়াল নেয়া ছিলো না। রোগী বেশ সিরিয়াস। ফাইল রেডি করে ভিতরে পাঠাবে?

আমার তেমন কোনো ব্যস্ততা না থাকায় পাঠিয়ে দিতে বললাম।

- Advertisement -

একটু পরে দীর্ঘ দেহী পক্বকেশ একজন পুরুষের সাথে বিশ বাইশ বছরের এক তরুনী কক্ষে প্রবেশ করলো। তাদের দু’জনকে দেখেই আমি রীতিমতো চমকে উঠলাম। তরুনী শুধুমাত্র রূপবতীই নয় এদেশের প্রেক্ষাপটে অমন দীর্ঘ সোনালী চুল কদাচিৎ দেখা যায়। হয়তো পার্লার থেকে চুল রঙ করিয়েছে এমনটা ভেবে পুরুষ মানুষের দিকে চেয়ে দেখি তারা সারা মুখমন্ডল ফুলে একেবারে ঢোল হয়ে গেছে। চোখ এবং ঠোঁট এতোটাই ফুলে গেছে যে এ মুহূর্তে তার পক্ষে কিছু দেখা বা মুখ দিয়ে খাওয়াদাওয়া করা দুঃসাধ্য হওয়ার কথা।

তাদের বসতে বলতেই তরুণী বললো, ওনার পক্ষে এই চেয়ারে বসা কষ্টসাধ্য হবে। নিচের দিকে পিছনে সামনে এতোটাই ফুলে গেছে যে ডাবল সাইজের কাঠের কমোড তৈরি করতে অর্ডার দিয়ে এসেছি। আমি বসলাম কিন্তু ওনার পক্ষে বসা সম্ভব হবে না।

— ঠিক আছে। আগে রোগীর নাম ও বয়স বলুন।

মোটা দুই ঠোঁট কিভাবে একটু ফাঁক করে রোগী যা বললো তাতে মনে হলো “মেয়র ইসরাক ট্রাম্প। বয়স সত্তুর বছর।”

—- এটা আবার কেমন নাম? আমি মনে হয় ভুল শুনেছি!

তরুণী তখন শুধরে দিয়ে বললো, ওনার নাম মীর ইসাহাক। এলাকার লোকজন ওনাকে ট্রাম উপাধি দিয়েছে। সেজন্য এখন নাম হয়ে গেছে মীর ইসাহাক ট্রাম।

—- ও আচ্ছা। তবে ট্রাম পদবী এর আগে কখনো শুনি নি। উনি আপনার বাবা?

সলজ্জ হেসে তরুণী বললো, আমি ওনার পঞ্চম স্ত্রী। ওনার আবার বিয়ে করার খুব শখ। তবে সংসারে এখন আমি একা-ই আছি।

—- সে আপনাদের নিজস্ব ব্যাপার। ওনার রোগের কথা খুলে বলুন। এভাবে ফুলে গেলো কবে, কিভাবে? মনে তো হয় বিষাক্ত পোকামাকড়ের আক্রমণ। উনি কথা বললেও বুঝতে পারবো কি-না সন্দেহ। আপনিই শুরু করুন তাহলে।

— হ্যাঁ, আমাকে বলতেই উনি নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনা শুরু থেকে বলতে গেলে একটু সময় লাগবে। আপনার কি সময় হবে?

ইন্টারেস্টিং কিছু হবে মনে হওয়ায় বললাম, খুব একটা তাড়া নেই আমার। তবে যথাসম্ভব গুছিয়ে অল্প কথায় বলবেন। নিন শুরু করুন।

— স্যার, আমাদের বাড়ি মাওয়া ঘাটের কাছাকাছি লৌহজং উপজেলায়। ওনার এক বন্ধু আছে নদীর ওপারে শিবচরে। তার নাম নুহুল আমিন। মানুষে ডাকে নুহু। এলাকায় সে নেতা গিরি করে বেড়ায় সে কারনে লোকজন তার নাম দিয়েছে নেতা নুহু। বছর পাঁচ ছয় আগে সে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হওয়ায় আমার স্বামীরও নেতা হওয়ার শখ জাগে এবং ইলেকশনে দাঁড়িয়ে জামানত হারায়। কিন্তু সে ফলাফল মেনে না নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলে হৈচৈ শুরু করে দেয়। এমনকি উপজেলায় গিয়ে অনশন ধর্মঘট শুরু করে ঘোষণা করে, তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা না হলে সে নিজে নিজেকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নিজে নিজে শপথ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ অফিস দখল করে বসবে।

এলাকার লোকজন তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ফিরিয়ে এনে কথা দেয় পরবর্তী নির্বাচনে সবাই তাকে ভোট দিয়ে মেম্বার পদে বিজয়ী করে নেবে। এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে গত বছর ওনাকে ঠিকই মেম্বার পদে নির্বাচিত করে নেয়। তারপর থেকেই ওনার স্বভাবে পরিবর্তন দেখা যায়। উনি ভাবেন এলাকার বা আশপাশের সবকিছুর ওপর ওনার অধিকার আছে। উনি যা বলবেন সবাইকে তা মেনে চলতে হবে। এমনকি প্রবাসী লোকজনের বাড়িতে গিয়ে তাদের স্ত্রীকে উত্যক্ত করার মতো ঘটনাও ঘটে। এরকম একজন মহিলা বেগম জুলিয়া যার বাড়ি পাশের গ্রামে তাকে একদিন লোকজন পাঠিয়ে জোর করে উনি নিজের বাড়িতে আনার খবর রটে যাওয়ায় গ্রামের লোকেরা ওনার বাড়ি ঘেরাও করলে মুখ রক্ষা করতে বলে, এই মহিলা শারীরিক ভাবে অসুস্থ ও দুর্বল হওয়ার কারণে ওনার কাছে নাকি একটা স্ট্রং ফাইল বা টনিকের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানায়। উনি এক স্ট্রং ফাইল বিতরন করার উদ্দেশ্যে মহিলাকে লোক পাঠিয়ে বাড়ি আসতে বলে। এলাকাবাসীর আপত্তি থাকলে সে এক্ষুনি তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে।

স্বর্ণকেশীকে থামিয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ওনার পদবী ট্রাম হলো কি করে আপত্তি না থাকলে বলুন। মনে হচ্ছে এখানেও কোনো গল্প আছে!

— আপনি ঠিকই বলেছেন। ওনাদের বংশ হলো মীর। সেই হিসেবে ওনার নাম মীর ইসাহাক। কয়েক বছর আগে আমাদের গ্রামের এক লোক কোলকাতা চিকিৎসা নেয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ওনাকে অভিভাবক হিসেবে সঙ্গে নেন। সেখানে ক’দিন থাকার সময় ধর্মতলা নামের একটা জায়গা থেকে নিয়মিত ট্রামে যাতায়াত করতো। গ্রামে ফিরে সেই ট্রামে চড়ার গল্প এতো বার লোকজনকে শুনিয়েছে যে লোকজন তখন থেকে তার নতুন নামকরণ করেছে ইসাহাক ট্রাম। এখন সবাই তাকে মীর ইসাহাক ট্রাম নামেই চিনে।

—- আপনাদের বিয়েটাও মনে হয় আকর্ষণীয় কোনো ঘটনার ফসল? নইলে দুজনের বয়সের যা পার্থক্য তাতে স্বাভাবিক ভাবে এরকম বিয়ে হওয়ার কথা নয়।

আমার কথা শুনে রোগী এবার বিরক্তি প্রকাশ করে ঘোঁতঘোঁত করে কিছু একটা বলতে চাইলো। কিন্তু তার তরুণী স্ত্রী ওসবে পাত্তা না দিয়ে বললো, আপনার এ ধারনাটাও পুরোপুরি ঠিক। উনি একদিন রাতে আমাদের বাড়ি এসেছিলেন মধু খেতে। এটা বছর খানেক আগের কথা। আমার বয়স তখন একুশ। শিবচরের ঐ নুহু মেম্বার তার ছেলের জন্য আমার বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। আমার বাবা তাতে সম্মতিও জানায়। কিন্তু আমার উপর ওনার যে চোখ পড়েছে সেটা আমরা বুঝতে পারি নি। তবে উনি মাঝেমধ্যেই আমাদের বাড়ি আসতেন। অজুহাত হিসেবে বলতেন আমাদের বড়ো একটা আম গাছে মৌমাছির চাক বেঁধেছে সেটা দেখতে আসেন। চাকে মধু জমলে কাটার সময় উনি উপস্থিত থাকতে আগ্রহের কথা জানান। তখনও আমরা বুঝতে পারি নি যে ওনার আসল আগ্রহ কোন দিকে।

একদিন বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে মাঝরাতে উনি আমাদের বাড়ি এসে দরজা খুলতে বলেন। বাবা বাড়িতে নেই জানিয়ে আমি ওনাকে দিনের বেলা আসতে বলি। কিন্তু উনি আপত্তি না শুনে বারবার দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ফেলার উপক্রম করেন। সেই শব্দ পেয়ে লোকজন জড়ো হয়ে ওনাকে ধরে ফেলেন। নিজেকে বাঁচাতে তখন উনি বলেন, এ বাড়ির আম গাছে মৌমাছির চাক কেটে মধু সংগ্রহ করতে উনি এসেছিলেন। প্রমান হিসেবে উঠোনে রাখা নারিকেলের শুঁকনো পাতা পেঁচিয়ে বেঁধে আনা একটা “লুহা” দেখান। এটায় আগুন দিয়ে চাক থেকে মৌমাছি সরিয়ে মধু সংগ্রহ করা হয়। গ্রামাঞ্চলে অন্ধকার রাতে এই “লুহা” জ্বালিয়ে লোকজন পথ চলাচল করে। আবার দুষ্ট প্রকৃতির লোকে এই লুহা দিয়ে অন্যের ঘরে আগুন পর্যন্ত লাগায়। উনি এতো রাতে কি উদ্দেশ্যে এ বাড়িতে এসেছে তা সবাই বুঝে ফেলে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি এড়াতে উনি তখন আমাকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সেই রাতের ঘটনার পর এলাকায় নিন্দা ছড়িয়ে পড়লে আমার বিয়ের সমস্যা হতে পারে এটা ভেবে এবং ওনার সাথে আমার বয়সের পার্থক্য বিবেচনা করে উপস্থিত সবাই আমার নামে দুই একর জমি এবং নগদ দশ লক্ষ টাকা মোহরানার বিনিময়ে বিয়ে করতে রাজি হলে আমার আপত্তি না থাকলে বিয়ের সম্মতি দেয়। আমিও ভাবলাম ওনার বিষয় সম্পত্তি যথেষ্ট আছে। কতদিন আর বাঁচবেন। এদিকে ওনার আচরণে দুর্নাম যা হবার হয়ে গেছে। সবকিছু বিবেচনা করে আমি বিয়েতে রাজি হয়ে গেলাম।

—- এতক্ষণে রোগীর স্বভাব আচরণ সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারনা হয়ে গেছে। এখন ওনার অসুখটা নিয়ে কথা বলুন। পুরো শরীর এভাবে ফুলে গেলো কিভাবে?

—- এখন সেখানেই এসে গেছি। ওনার সাথে আমার এভাবে বিয়ে হওয়ায় নুহু মেম্বার মনে মনে খুবই ক্ষিপ্ত হলেন কিন্তু বাইরে প্রকাশ না করে সুযোগের অপেক্ষায় রইলেন। দুই বন্ধুর সম্পর্ক বাহিরে বাহিরে ঠিকই থাকলো। এপারেও নুহু মেম্বারের আত্মীয়স্বজন আছে। তাদের মাধ্যমে ওনার নতুন নামকরণ করলেন লুহা ইসাহাক। যার অর্থ উনি পরের বাড়িতে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে লুহা দিয়ে আগুন লাগিয়ে বেড়ান।

ওসব কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে উনি নিজের মত মতোই চলতে লাগলেন। কিছুদিন পর নুহু মেম্বার তার বাড়িতে ওনাকে দাওয়াত দিয়ে ভূরিভোজন করিয়ে খুশি করে ফিরে আসার সময় বললেন, তাদের পাশের গ্রামের জঙ্গলের মধ্যে একটা গাছে মৌমাছির বড়ো একটা চাক বেঁধেছে। মধু সংগ্রহ করার সময় প্রায় হয়ে গেছে। বন্ধু প্রস্তুত হয়ে এলে দু’জনে একসাথে গিয়ে চাক কেটে মধু সংগ্রহ করতে পারে।

উনি লোভ সম্বরণ করতে না পেরে দু’দিন পর ইঞ্জিন চালিত বোটে প্রয়োজনীয় লুহা, দেয়াশলাই, পাতিল, ধারালো ছুরি, গামছা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সহ একদিন সন্ধ্যা রাতে নেতা নুহু-র বাড়ি গিয়ে হাজির। বন্ধু তাকে দেখে খুশি হয়ে মাঝরাতে দু’জনে সেই জঙ্গলে গিয়ে ওনাকে মই দিয়ে গাছে উঠিয়ে এক ফাঁকে চুপচাপ সেখান থেকে একটু দূরে গিয়ে সারা শরীর নেট দিয়ে পেঁচিয়ে চাক লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে দৌড়ে সরে পড়লো।

আসলে সেটা ছিলো ভিমরুলের চাক। আমার স্বামী ট্রাম সাহেব মৌচাক ভেবে ভিমরুলের চাক থেকে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে পড়লেন মহা বিপদে। নেতা নুহু বদলা নিতে পেরে মনে মনে খুশিতে আটখানা। এদিকে চাক থেকে শত শত ভিমরুল বের হয়ে ওনাকে একা পেয়ে সারা শরীরে এমন হুল ফোটালো যে ওনাকে চেনার উপায় ছিলো না। সেই রাতে মরনপন চিৎকার শুনে গ্রামের লেকজন তাকে উদ্ধার করে শিবচর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তারা রোগীর অবস্থা দেখে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করতে বলেন। আমাদের এলাকায় আপনার অনেক ভক্ত রোগী আছে। তাদের কথা শুনে আজ তড়িঘড়ি করে আপনার কাছে নিয়ে এলাম। এখন আপনি এর একটা বিহিত করে দিন।

আমি তৎক্ষনাৎ নিকটস্থ ফার্মেসী থেকে দুটি ইনজেকশন এনে পুশ করে ভলটালিন সাপোটিজরি, এবং অন্যান্য ঔষধ লিখে দিয়ে বললাম, এই ঢুস দৈনিক দুই বার মলদ্বারে ব্যবহার করলেই দেখবেন ব্যথা ফুলা কমে গেছে।

মিসেস ট্রাম তখন মাথাটা কাছে এগিয়ে এনে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলেন, ওনার তো সামনে পিছনে সব দিকেরই খারাপ অবস্থা। ঢুস কি শুধু পিছনে দিলেই হবে?

তার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে কোনোরকমে বললাম, সামনে দিয়ে ঢুস দেয়ার কথা কস্মিনকালেও শুনি নি। আপনি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

এতেও কি তিনি থামেন? এবার একটু শব্দ করে জিজ্ঞেস করলেন, ওনার পিছনটা তো ফুলে একেবারে ঢোল। ঢুস যদি ঢুকানো না যায় তাহলে কি ওটা খাওয়ানো যাবে?

এমন নাছোড়বান্দা আজব চরিত্রের মানুষকে বিদায় করতে তাড়াতাড়ি বললাম, এই ঢুসের সামনের দিকটা সুচালো। দেখতে অনেকটা ছোট আকারের মিসাইলের মতো। যথেষ্ট পিছল হওয়ায় জায়গামতো ধরে চাপ দিলেই মিসাইলের মতো গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।

আমার কথা শেষে হওয়া মাত্র দেখলাম ট্রাম সাহেবের ফোলার কারণে বন্ধ দুই চোখ আতঙ্কে কেমন করে একটু মেলে এবং অনেক কষ্ট করে ঠোঁট একটু ফাঁক করে মরন চিৎকার দিয়ে বললো, আবারও মিসাইল!

তারপর ভারী শরীরটা কোনোরকমে টেনে দরজা খুলে ভয়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলেন।

এতবড় ঘটনায়ও তার স্ত্রীর তেমন প্রতিক্রিয়া হলো না। বললো, ঐ শরীর নিয়ে কতদূর আর যাবে? তার দৌড় আমার জানা আছে। সব কাজ একেবারে লেজেগোবরে করার অভ্যাস। আপনি শুধু বলেন, সকাল ও রাতে দুই বেলা ঢুস ব্যবহার করলে ব্যাথা ফুলা সব কমে যাবে?

— হ্যাঁ হ্যাঁ যাবে। আগে তো ব্যবহার শুরু করুন। এক রোগীতে এতো সময় নিলে চলবে কি করে। আপনার স্বামী তো চলে গেছেন। এবার আপনিও আসুন।

এতক্ষণে চোখে রহস্য ঢেলে মুখের কোনে অদ্ভূত এক হাসি এনে ফিসফিস কন্ঠে বললেন, আমি তাহলে দৈনিক দুই বেলার পরিবর্তে এক বেলা ঢুস ব্যবহার করাবো। ওনার তো পিছনের সাথে সাথে সামনেটাও ফুলে গেছে। একবার করে ব্যবহার করলে ব্যথাটা কমে ফোলা-টা থেকে যাক। মন্দ হয় না তাহলে। কি বলেন আপনি?

এমন অদ্ভূত চাওয়া দেখে আমার মুখ ততক্ষণে হা হয়ে গেছে। তিনি এগিয়ে এসে আদর করে চিবুকে হাত দিয়ে উপরের দিকে মৃদু চাপ দিয়ে হা করা মুখ বন্ধ করে বললেন, কি এমন বলেছি যে মুখ বন্ধ করতে ভুলে গেছেন? মশা মাছি ঢুকে পড়লে তো সমস্যা হবে। আমি এবার যাই। আবার আসবো ডাক্তার সাহেব। বাইইই।

রোজা-র কারণে সুগার ফল করে না রোগীর স্ত্রীর কথায় মাথাটা ঘুরাচ্ছে। দাঁড়িয়ে উঠতে গিয়ে আবারও বসে পড়লাম চেয়ারে। একটু পর ইন্টারকমে রিসেপশনিস্টকে জিজ্ঞেস করলাম, মেয়র ইসরাক ট্রাম মানে শেষ রোগী এবং তার স্ত্রী চলে গেছে?

হ্যাঁ শুনে মনে সাহস করে ধীরে ধীরে দরজা খুলে আমি লিফ্টের দিকে এগিয়ে গেলাম।

- Advertisement -

Read More

Recent