
কানাডায় আয়কর পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা দ্রুত শেষের পথে। এই প্রেক্ষাপটে কর বিশেষজ্ঞরা করদাতাদের শুধু চলতি বছরের কর ফাইলিং নয়, বরং আগামী বছরের আর্থিক পরিকল্পনার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সংগঠনের মাধ্যমে করদাতারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারেন।
ট্যাক্স অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠান নুরঅ্যান্ডড্যানিয়েলসের বিশেষজ্ঞ আলেক্স্যান্ডার নুর বলেন, “একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকলে তা আয়কর বিবরণীতে অর্থ সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রত্যেক করদাতার পরিস্থিতি আলাদা, তাই সবার জন্য একই কৌশল কার্যকর নয়।”
তিনি আরও জানান, যারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কর ফাইল করতে সমস্যায় পড়ছেন, তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সমস্ত প্রাসঙ্গিক রসিদ সংগ্রহ করা। যেমন দাতব্য অনুদান, চিকিৎসা খাতে ব্যক্তিগত ব্যয়, এবং শিশু পরিচর্যার খরচ। এসব ব্যয় সঠিকভাবে দেখাতে পারলে করের বোঝা কমানো সম্ভব।
নিম্ন আয়ের দম্পতিদের ক্ষেত্রে মেডিকেল ব্যয়ের কর ক্রেডিট স্থানান্তর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে, যা তাদের কর সাশ্রয়ে সহায়তা করে। অন্যদিকে, দাতব্য অনুদানের ক্ষেত্রে কর সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। যারা ছোট ব্যবসার মালিক, তাদের জন্য বাড়িতে বসে কাজ করার খরচও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। যেমন মর্টগেজ বা ইউটিলিটি খরচের একটি অংশ কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে, যা অনেকেরই অজানা।
এছাড়া, বছরের এই সময়টিকে আগামী কর মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে নিবন্ধিত সঞ্চয় অ্যাকাউন্টগুলো যেমন অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনা এবং ফার্স্ট হোম সেভিংস অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে পরিচালনা করা জরুরি। এসব অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগের মাধ্যমে করদাতারা ভবিষ্যতে করের চাপ কমাতে পারেন।
উল্লেখ্য, কানাডা রেভিনিউ এজেন্সির নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩০ এপ্রিল। সময়সীমা মেনে চলা এবং সঠিক তথ্য প্রদান করা জরুরি, নচেৎ জরিমানা বা সুদের মুখোমুখি হতে পারেন করদাতারা। সার্বিকভাবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন শুধু সময়মতো কর পরিশোধই নয়, বরং সচেতন পরিকল্পনা ও সংগঠনের মাধ্যমেই একজন করদাতা তার আর্থিক ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী করতে পারেন।
