
কানাডায় পোষ্য প্রাণী মানুষের মানসিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এমনটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউট এবং পেটস্মার্ট চ্যারিটি অব কানাডার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষা বলছে, পোষ্য থাকা মানুষের জীবনে শুধু আনন্দই আনে না, বরং সামাজিক ও মানসিক দিক থেকেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়।
সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী পোষ্য মালিকদের ৯৬ শতাংশই জানিয়েছেন যে, পোষ্য থাকার কারণে তাদের মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এই উচ্চ হার থেকেই বোঝা যায়, পোষ্য প্রাণী শুধু সঙ্গী নয়, বরং অনেকের কাছে মানসিক স্বস্তির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস।
এছাড়া, ৪৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, পোষ্য তাদের পরিবারে এক নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়ে কমিউনিটির অনুভূতি আরও গভীর করেছে। এই কমিউনিটি বোধ তৈরি হয় বিভিন্নভাবে যেমন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠা, অন্যান্য পোষ্য মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, কিংবা স্থানীয় অ্যানিমেল শেল্টারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন।
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ৩৯ শতাংশ পোষ্য মালিকের মতে পোষ্যের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো স্বস্তি ও সঙ্গ পাওয়া। একাকীত্ব কমাতে এবং দৈনন্দিন জীবনের চাপের মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে পোষ্যের ভূমিকা এখানে স্পষ্ট।
অন্যদিকে, ১৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, পোষ্য তাদের জীবনে শৃঙ্খলা বা রুটিন তৈরিতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে ৫৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। নিয়মিত খাবার দেওয়া, হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া কিংবা যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে একটি দৈনন্দিন কাঠামো তৈরি হয়, যা জীবনযাত্রাকে আরও সুসংগঠিত করে।
এছাড়া, ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী পোষ্য থাকার অন্যতম উপকারিতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন চাপ ও উদ্বেগ কমানোর বিষয়টি। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পোষ্যের ইতিবাচক প্রভাবের এই দিকটিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আধুনিক ব্যস্ত জীবনে।
এই প্রসঙ্গে পেটস্মার্ট চ্যারিটি অব কানাডার প্রেসিডেন্ট আইমি গিলব্রেথ এক বিবৃতিতে বলেন, কানাডার পোষ্য মালিকরা তাদের পরিবারে একটি পোষ্য যুক্ত করে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, চলতি বছর সংস্থাটি অ্যানিমেল শেল্টারগুলোর জন্য প্রায় সাড়ে চার লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে, যা এই ইতিবাচক প্রবণতাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, এই সমীক্ষাটি ১১ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে পরিচালিত হয় এবং এতে অংশ নেন ১,০০৪ জন পোষ্য মালিক, যারা সবাই অ্যাঙ্গাস রিড ফোরামের সদস্য।
সার্বিকভাবে, গবেষণাটি স্পষ্ট করে যে, পোষ্য প্রাণী শুধু বিনোদনের উৎস নয়, বরং মানুষের মানসিক সুস্থতা, সামাজিক সংযোগ এবং জীবনযাত্রার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
