ট্যাক্স ড্রপ বক্স বন্ধের সমালোচনা

Black metal outdoor smoker/grill with the lid open, showing the smoking chamber and a lower storage cabinet on a wooden deck beside a house.
কানাডা রেভিনিউ এজেন্সি সিআরএ দেশজুড়ে চালু থাকা ট্যাক্স ড্রপ বক্স ব্যবস্থা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হাজারো করদাতার সেবাপ্রাপ্তি ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে একটি প্রভাবশালী ফেডারেল ইউনিয়ন

কানাডার কর প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কানাডা রেভিনিউ এজেন্সি (সিআরএ) দেশজুড়ে চালু থাকা ট্যাক্স ড্রপ বক্স ব্যবস্থা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হাজারো করদাতার সেবাপ্রাপ্তি ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে একটি প্রভাবশালী ফেডারেল ইউনিয়ন।

সিআরএ চলতি মাসের শুরুতে ঘোষণা দেয়, আগামী ২৮ মে’র পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থাপিত ৪৫টি ড্রপ বক্স আর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। এতদিন এসব ড্রপ বক্সের মাধ্যমে করদাতারা তাদের আয়কর বিবরণী, অর্থপ্রদান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি সরাসরি জমা দিতে পারতেন।

- Advertisement -

সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গত ছয় বছরে এই ড্রপ বক্স ব্যবস্থার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যেখানে আগে প্রায় ২০ লাখ নথি জমা পড়ত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজারে। সিআরএ বলছে, ডিজিটাল ফাইলিংয়ের প্রসারই এর প্রধান কারণ। তবে শুধু ব্যবহার কমে যাওয়াই নয়, নথি প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব এবং কিছু ক্ষেত্রে ভাংচুর ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ড্রপ বক্স বাতিলের পর করদাতাদের জন্য তিনটি প্রধান বিকল্প রাখা হচ্ছে : ইলেক্ট্রনিক ফাইলিং (অনলাইন সাবমিশন), ডাকযোগে নথি পাঠানো, কানাডা পোস্ট এর আউটলেটের মাধ্যমে সরাসরি অর্থপ্রদান। সিআরএ দাবি করছে, এই পদ্ধতিগুলো আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং আধুনিক।

তবে ইউনিয়ন অফ ট্যাক্সেশন এমপ্লয়িজ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইউনিয়নের মতে, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ করে তিনটি শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যেমন : জ্যেষ্ঠ নাগরিক, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং যেসব অঞ্চলে ডিজিটাল সুবিধা সীমিত। ইউনিয়নের দাবি, “খরচ বাঁচানোর নামে একটি সহজ, বিনামূল্যের এবং সবার জন্য সহজলভ্য সেবা বন্ধ করা হচ্ছে, যা অনেকের জন্য বাস্তব সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”

ইউনিয়ন আরও অভিযোগ করেছে যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি। তারা সরকারের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার দাবি তুলেছে।

এটি কানাডার কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হলেও, এর ফলে “ডিজিটাল বিভাজন” আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। শহর ও প্রযুক্তি-সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী যেখানে সহজেই অনলাইন সেবায় অভ্যস্ত হচ্ছে, সেখানে গ্রামীণ বা প্রযুক্তি-বঞ্চিত জনগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সিআরএর এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক মনে হলেও, সামাজিক বাস্তবতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার প্রশ্নে এটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয় কি না।

- Advertisement -

Read More

Recent