
কানাডায় জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে বড় ধরনের কর-সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আসন্ন শ্রম দিবস পর্যন্ত গ্যাসোলিন ও ডিজেলের ওপর আরোপিত ফেডারেল আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কানাডার অভ্যন্তরীণ বাজারে। এই প্রেক্ষাপটেই সরকার জরুরি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ সংকট এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। কানাডায় এর প্রভাব স্পষ্ট দেশজুড়ে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি লিটার প্রায় ১.৭৩ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ সেন্ট বেশি। যদিও গত এক সপ্তাহে দাম কিছুটা কমে প্রায় ১০ সেন্ট নেমেছে, তবুও সাধারণ মানুষের জন্য এটি এখনও বড় আর্থিক চাপের কারণ। বিশেষ করে পরিবহন খাত ট্রাকিং, লজিস্টিকস এবং এয়ারলাইন শিল্প এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে মারাত্মক চাপে পড়েছে। ফলে পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে সামগ্রিকভাবে দ্রব্যমূল্যের ওপরও প্রভাব পড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি ঘোষণা করেন, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে এই কর অব্যাহতি কার্যকর হবে। এর ফলে ভোক্তারা গ্যাসোলিনে লিটারপ্রতি প্রায় ১০ সেন্ট এবং ডিজেলে প্রায় ৪ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পার্লামেন্ট হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ “দায়িত্বশীল, সময়োপযোগী এবং সম্পূর্ণ অস্থায়ী”, যার লক্ষ্য সরাসরি জনগণকে স্বস্তি দেওয়া। তার ভাষায়, “এই মুহূর্তে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে। তাই আমাদের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাধারণ পরিবারগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়।”
সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, এই কর অব্যাহতি শুধু ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য নয়, বরং ট্রাকার ও পরিবহননির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে পণ্য পরিবহন ব্যয় কমবে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের ওপর থেকেও আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কারণ, বিমান সংস্থাগুলো জ্বালানি ব্যয়ের চাপে ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছিল, যা যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছিল।
এই পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসার জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। কারণ, জ্বালানি বাজার মূলত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি বাস্তবসম্মত ও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানাডা সরকার বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান তুলে ধরেছে, যা অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও নাগরিকদের আর্থিক চাপ লাঘবে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
