
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল সংক্রান্ত অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ক্রমেই গভীর হচ্ছে কিউবার অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে। এই প্রেক্ষাপটে কিউবাকে মানবিক সহায়তা দেওয়া উচিত কি না তা নিয়ে কানাডার জনগণের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হলেও সামগ্রিকভাবে সহায়তার পক্ষেই ঝুঁকছে জনমত।
সম্প্রতি পরিচালিত এক জনমত সমীক্ষায় এই প্রবণতা উঠে এসেছে। অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের জরিপ অনুযায়ী, ৫১ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন, তাদের দেশের উচিত কিউবাকে সহায়তা প্রদান করা, যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি থাকতে পারে। অন্যদিকে, ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, কিউবাকে সহায়তা দেওয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রেক্ষাপটে।
বর্তমানে কানাডা ইতোমধ্যেই কিউবাকে প্রায় ৮০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তার বড় একটি অংশ কিউবার খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই পরিমাণ সহায়তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। সমীক্ষায় দেখা যায়, ৩৪ শতাংশ কানাডিয়ান এই সহায়তাকে যথেষ্ট মনে করেন, কিন্তু ৩২ শতাংশ আরও বেশি সহায়তার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার ১৯ শতাংশের মতে, সহায়তা কমানো উচিত বা একেবারেই না দেওয়াই ভালো।
রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কানাডার লিবারেল সমর্থকদের মধ্যে সহায়তার পক্ষে সমর্থন তুলনামূলক বেশি। প্রায় অর্ধেক লিবারেল ভোটার বর্তমান সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
এই সমীক্ষা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোর প্রতি কানাডিয়ানদের আগ্রহের পার্থক্য। যদিও কিউবার পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত তাদের দৃষ্টি বেশি আকর্ষণ করছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫১ শতাংশ কানাডিয়ান কিউবার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। এর মধ্যে ১৪ শতাংশ খুব ঘনিষ্ঠভাবে এবং ৩৮ শতাংশ ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অন্যদিকে, ৩৬ শতাংশ কেবল শিরোনাম পর্যায়েই বিষয়টি অনুসরণ করছেন।
১১ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে ৪ হাজার ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক কানাডিয়ানের ওপর অনলাইনে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কানাডার জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবার পর্যটন খাত মারাত্মক চাপে রয়েছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক সহায়তা, বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিউবার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। কানাডার অভ্যন্তরীণ জনমত সেই সহায়তার পক্ষে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে যা ভবিষ্যতে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
