
কানাডায় সহিংস অপরাধ, গাড়ি চুরি ও পুনরাবৃত্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জামিন আইন কঠোর করার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সোমবার ফেডারেল সরকারের ধীরগতির সমালোচনা করে প্রকাশ্যে হতাশা জানান। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
সোমবার ফোর্ড বলেন, “আমি সত্যিই খুব হতাশ। আমরা সব প্রিমিয়ার একসঙ্গে বসে স্পষ্টভাবে বলেছি জামিন আইনে সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এত সময় পার হওয়ার পরও বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।”
গত বছর কানাডার ১৩টি প্রদেশ ও অঞ্চলের প্রিমিয়ার একযোগে ফেডারেল সরকারের কাছে কঠোর জামিন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে সহিংস অপরাধে অভিযুক্ত ও একই অপরাধ বারবার করা অপরাধীদের সহজে জামিন পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়। ফোর্ড অভিযোগ করেন, প্রাদেশিক সরকারগুলো নিজেদের দায়িত্ব পালন করলেও ফেডারেল পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃশ্যমান গতি নেই। তার ভাষায়, “আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু যেভাবে বিষয়টি এগোনোর কথা ছিল, তা হচ্ছে না।”
ফেডারেল সরকার গত অক্টোবর মাসে “বেইল অ্যান্ড সেন্টেন্সিং রিফর্ম অ্যাক্ট” নামে একটি বড় ধরনের সংস্কার বিল আনে। বিলটির মূল উদ্দেশ্য ছিল : সহিংস অপরাধীদের ক্ষেত্রে জামিন কঠোর করা, একই অপরাধ বারবার করা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্যদের সহজে মুক্তি রোধ করা এবং গুরুতর অপরাধের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান আনা। তবে বিলটি এখনো কানাডার সেনেটে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। ফলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কার্যত আটকে আছে।
ফোর্ড জননিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্টারিওবাসী ক্রমবর্ধমান গাড়ি চুরি, বাড়িতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সহিংস অপরাধে বিরক্ত ও আতঙ্কিত। তার মতে, “মানুষ এখন বাইরে বেরিয়ে নিরাপদ বোধ করতে পারছে না। পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে টরন্টো ও আশপাশের এলাকায় সংগঠিত গাড়ি চুরি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অনেক ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এসব চুরির সঙ্গে জড়িত এবং চুরি হওয়া গাড়ি বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে অন্টারিও সরকারের আরেকটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসে। অন্টারিওর সলিসিটর জেনারেল মাইকেল কার্জনার নিশ্চিত করেন যে, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কারাগার থেকে ভুলভাবে মুক্তি পাওয়া পাঁচজন কয়েদি এখনো পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। “আমরা চাই এই সংখ্যা শূন্যে নেমে আসুক,” বলেন কার্জনার।
অপরাধ ও জননিরাপত্তা ইস্যু এখন কানাডার অন্যতম বড় রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গাড়ি চুরি ও সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির কারণে প্রাদেশিক সরকারগুলো ফেডারেল সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ডাগ ফোর্ডের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, অন্টারিও সরকার মনে করছে বর্তমান জামিন ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, অতিরিক্ত কঠোর আইন যেন বিচার ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি না করে। “বেইল অ্যান্ড সেন্টেন্সিং রিফর্ম অ্যাক্ট” নিয়ে আগামী মাসগুলোতে কানাডার রাজনীতিতে আরও তীব্র বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ
