
আমি তখন Apollo হাসপাতালে কাজ করি। সারাদিন নানারকম ব্যস্ততায় দিন কাটে। এমনি সময়ে আমাকে জানানো হলো যে আমার মাতামহের (প্রিন্সিপাল টি হোসেইন) জন্ম শত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এস সি মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। অনুষ্ঠানে আমার ওপর দায়িত্ব দেয়া হয় তাঁর জীবনীর সার সংক্ষেপ লিখে দেয়ার জন্যে, যেটা শতবর্ষ স্মরণিকায় প্রকাশিত হবে। নানার বর্ণাঢ্য জীবন যাত্রা তুলে আনার জন্য যথেষ্ট গবেষনা করা প্রয়োজন। এই গবেষণার জন্য দরকার অখন্ড অবসর। কিন্তু আমার তখন খুব ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।
নানার লেখা স্মৃতিকনা আর পুরনো কয়েকটি সংকলন এই সম্বল। কিন্তু নানার বর্ণাঢ্য জীবনী লেখার জন্য এই তথ্য ভান্ডার ছিল অপ্রতুল। আফসোস হলো মাতামহ বেঁচে থাকতে যদি রেকর্ড করে রাখতাম! শেষ পর্যন্ত তাঁর কন্যা অর্থাৎ আমার আম্মা আর খালাদের শরনাপন্ন হলাম। নানার কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্রদের সাথে আলাপ করলাম। বেরিয়ে এলো সব মণি মুক্তো আর হীরে জহরতের মতো তথ্য। তার মধ্যে একটি মূল্যবান বিষয় ছিল মহাত্মা গান্ধীর চিঠি। মহাত্মা গান্ধী ১৯৪৬ সালে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার সময় দাঙ্গা থামানোর জন্য কয়েকমাস নোয়াখালীতে অবস্থান করেন। সেই সময় নানার সাথে দাঙ্গা উপদ্রুত জায়গা বিশেষত রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ি, চৌমুহনীতে সফর করেন। গান্ধীজি চাইছিলেন হিন্দি বা ইংরেজী জানা শিক্ষিত একজন জনপ্রতিনিধি। সেই কারণেই তিনি নানাকে চিঠি দিয়ে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেন। জানা গেলো সেই চিঠির মূল কপি সংরক্ষিত আছে বড় মামা জাকির হোসেইনের জিম্মায়। বড় মামা তখনো জীবিত ছিলেন।
পারিবারিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো এই মূল্যবান চিঠিটি অনুবাদসহ ফ্রেমে বন্দি করে জাদু ঘরে দিয়ে দেয়া হবে। সেই সংবাদ তখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু আমাদের কাছে সেই তথ্য ছিলো না। সেদিন আমার ছোট ভাই রুশো পারিবারিক অনলাইন গ্রুপে সেই খবর টি শেয়ার করে। পুরনো হলেও এই সংবাদটি তে আছে ইন্টারেস্টিং বিষয়।
উল্লেখ্য: নোয়াখালীর জয়াগ নামে একটি জায়গা আছে যেখানে গান্ধীজি একটি আশ্রম গড়ে তোলেন, যা এখন জাদু ঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।
