অভিনন্দন নিগার সুলতানা এবং মেহনাজ মুস্তারিন

“আরো এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতর খেলা করে”― যারা জীবনানন্দ পড়েন, তাদেরকে ‘আটবছর আগে’ কবিতার এই লাইনে এসে ধাক্কা খেতে হয়। এই বিস্ময় আমাদেরকে ক্লান্ত করে, সবকিছু থাকবার পরেও একজন মানুষ কেন সর্বশান্ত হতে পথে নামে, সেই প্রশ্নের কোন জবাব কেউ জানে না। মোনালিসার হাসি তাই রহস্য হয়ে জাগিয়ে রাখে আমাদেরকে সারারাত। এটাই শিল্প। ইশ্বর স্বয়ং যেখানে এই রহস্যময়তার কারণ উদ্ধারে ব্যস্ত, সেখােন মানুষ কোন ছাড়? শিল্প বিষয়টাই তাই, এ মানুষকে সুধা দেয়, আনন্দ দেয়; কিন্তু, যতবার আমরা এর মর্ম উদ্ধারে ব্যস্ত হবো, ততবার ব্যর্থ হবো। চিত্রকলা, কবিতা, গল্প, সঙ্গীতসহ শিল্পকলার যেখানেই সেই বিপন্ন বিস্ময়ের খোঁজ মেলে, আমরা আটকে থাকি গলায় দুলানো লকেটের মতো আমাদের মন দুলতে থাকে।

- Advertisement -


এত কথা বলছি দুটো কারণে। আমার দু’জন সুহৃদের লেখা মন-মানচিত্র নামের অনলাইন সাহিত্যপাতায় প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। একটি মধ্যরাতে অপরটি ভোরে শেহরির সময়। প্রথমজন ক্যালগারির মানুষ নিগার সুলতানা। তিনি যে নিরবে কবিতার সাধনা করে চলেছেন কলকাতায় পড়বার সেই অনেক বছর আগের সময় থেকে, সেটা যেদিন আবিষ্কারে সক্ষম হলাম, সেদিন থেকে তাঁর পিছু নিয়েছি। সিদ্দিকী ভাইয়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম ওনার লেখা তিনটি কবিতা। এরমধ্যে তাঁর লেখা ৩০টার অধিক কবিতা পড়েছি। ঘুরেফিরে সেই মুগ্ধতা, যেজন্য আমাকে জীবনানন্দ পড়তে হয় বারবার। রবীন্দ্রনাথে ডুবে যেতে হয়। দ্বিতীয়জন রাজশাহীর মেহেনাজ মুস্তারিন। লেখালেখির কারণে তাঁর সাথে যুক্ত হওয়া, এখন আমরা দুই পরিবার এক মোহনায় মিশে গেছি। তাঁর গদ্যের হাত দূর্দান্ত। কয়েকদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মিলনমেলা নিয়ে একটা লেখা ছাপিয়েছিলেন ফেসবুকে। সেটাকেই একটু ঘষাঁমাজা করে পাঠিয়েছিলাম সিদ্দিকী ভাইয়ের কাছে।
অভিনন্দন নিগার সুলতানা এবং মেহনাজ মুস্তারিন। অভিনন্দন আমাদেরকে বিপন্ন বিস্ময়ের জগতে নিয়ে যাবার সেই জাদুকরী ক্ষমতা দেখানোর জন্য। সেই সাথে ধন্যবাদ মন-মানচিত্রের সম্পাদক আলি সিদ্দিকী ভাইকে।
[লেখা দুটো নিচে কমেণ্ট বক্সে দিলাম। সেলফোনে নেগার সুলতানার কবিতা পড়তে হলে ফোনটিকে আড়াআড়িভাবে ধরবেন, তা না হলে, অর্থাৎ লম্বলম্বিভাবে ধরলে কবিতার লাইন ভেঙে যাবে এবং আপনি বিভ্রান্ত হবেন।]

ক্যালগেরি, আলবার্টা

- Advertisement -

Read More

Recent