
পুরোনো সম্পর্কের বাক্সটা খুলে বসেছি বহু দিন পর
বাক্স ভর্তি অনেকগুলি সম্পর্ক প্রায় পঞ্চাশের জীবনে জমা হয়ে আছে
শৈশবের অনেকগুলি সম্পর্ক ফিকে ধূসর বর্ণের হয়ে গেছে
আবছা আবছা স্মৃতিতে ভাসে
পরোক্ষনেই হারিয়ে যায়,
শৈশবের একটি সম্পর্ক কিছুটা হলেও মনে পড়ে
বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো সেই শৈশবের বন্ধু আমার জীবনে স্থায়ী হয় নি
নামটাও কখন স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে,
নাম মনে না থাকলেও আবছা স্মৃতি কি থাকতে পারে না?
পৃথিবীর যে স্থানেই বেচে থাকুক , দু একটা দিনের ব্যবধান ছাড়া এখন সে আমারই বয়সী হবে
আমরা একই সাল একই মাসে জন্মেছিলাম।
শৈশবে মার সংগে আমার মাত্র কিছু স্মৃতি গুপ্তধনের মত রয়ে গেছে
মা প্রতিদিন গোসল করানোর পর পরিপাটি করে চুল আঁচড়ে দিতেন
তেল চিটচিটে চুলে কেমন স্পষ্ট আলপথের মত সিঁথি কেটে দিতেন
আমি চুপচাপ বাবুটি হয়ে বসে থাকতাম,
মা আমায় কখনো বকুনি দিয়েছিলেন কিনা মনে পড়ে না
মার কাছে শুনেছি শৈশবে আমি একেবারেই চুপচাপ, নির্বিরোধী ছিলাম
আমাকে শাসন করার জন্য তার খুব একটা কথা ব্যয় করতে হয় নি
কৈশোরের পুরোটা সময় এবং তারুণ্যের প্রথম দিকে প্রায়ই মার পাশে এসে চুপটি করে শুয়ে থাকতাম
মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন
এভাবেই বড় হয়ে উঠেছিলাম
মৃত্যুর সময় মার থেকে আমি লক্ষ যোজন দূরে
মা চলে গিয়েছিল ভোররাতের দিকে
মনে আছে পঁচিশ রোজা ছিল সেই দিন
এখনো তিনি প্রতিদিন আসেন
ব্যস্ততার মাঝে কিংবা ঘুমোবার আগে হলেও তিনি উঁকি দিয়ে যান
ঘুমের ঘোরে টের পাই মাথায় মার হাত বুলানো মৃদু পরশ।
আরেকটি সম্পর্ক বাক্সের খুব নিচের দিকে কোনায় পড়ে ছিল
অথচ এই সম্পর্কের কাছে প্রেমে-অপ্রেমে বার বার ছুটে গিয়েছিলাম
জীবনের ষোল আনা আবেগ এখানেই মাথা কুটে মরেছিল
একদিন কি এক অভিমানে সব দ্বার রুদ্ধ করে কোথায় হারিয়ে গেল,
এই সম্পর্কটা জীবনে থেকে যাওয়া জরুরী ছিল
যেমন জরুরী থাকে গুরুতর অসুস্থ রোগীর জন্য অক্সিজেন মাস্ক
বাক্সের ভেতর আরো কিছু এলেবেলে নাম না জানা সম্পর্ক রয়ে গেছে
তারা থাক, যেভাবে ছিল এতদিন, এই প্রায় পঞ্চাশের জীবনে।
স্কারবোরো, অন্টারিও, কানাডা
