সেকালে পালতোলা জাহাজের জয়জয়কার ইউরোপে। হোক তা বাণিজ্যিক কিংবা প্রমোদ তরী। পাইরেটরাও জলদস্যুতায় ব্যবহার করতো পালতোলা জাহাজ। এমনকি রণতরী হিসাবেও ব্যবহৃত হতো লম্বা মাস্তুলে পাল লাগানো সুসজ্জিত যুদ্ধ জাহাজ।
টেমস নদীতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীসহ অন্যান্য জাহাজের আনাগোনা ছিলো বিস্তর। ঘটনাক্রম ১২০০ থেকে ১৮৫০ সাল। লন্ডন নগরীর এপার ওপার যোগাযোগ সহজ করতে এরিমধ্যে নির্মিত হয়েছে বেশ কটি সেতু। উনবিংশ শতকের শেষদিকে (১৮৭৫) পূর্ব লন্ডনে ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ঘটে। লন্ডন ব্রীজের ডাউনস্ট্রিমে প্রয়োজন হয় আরেকটি সেতুর।
এবার বাঁধ সাধলো পুল অব লন্ডনে নোঙর করতে আসা লম্বা মাস্তুলের জাহাজ চলাচল। সমস্যা সমাধানে ১৮৭৭ সালে স্পেশাল ব্রীজ কমিটি গঠন করা হয়। ডিজাইন প্রেসক্রিপশনে বলা হয় ব্রীজের একেকটি স্প্যানের গ্যাপ বা দূরত্ব হতে হবে অন্তত ২০০ ফুট। আর ন্যুনতম হেডরুম বা জলের উপরিভাগ থেকে ব্রীজের তলার উচ্চতা হতে হবে ১৩৫ ফুট। ১৮৮৫ সালে প্রকৌশলীদের এই সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়।
ফাইনাল ডিজাইন বা চূড়ান্ত নকশায় ব্রীজের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮০০ ফুটে। উচ্চতা ২১৩ ফুট। একুশ তলা ভবনের সমান। উঁচু এক টাওয়ার। নাম তাই টাওয়ার ব্রীজ।
জুন ২১, ১৮৮৬ প্রিন্স অব ওয়েলস ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু হয় একই বছর। শেষ হয় ১৮৯৪ সালে। ৭০,০০০ লং টন কংক্রীট ঢালতে হয়েছিলো কেবল নদীর তলায় ফাউন্ডেশন নির্মাণে। ১১,০০০ লং টন ইস্পাত ব্যবহৃত হয়েছে উপরের স্ট্রাকচার এবং ওয়াকওয়ে তৈরী করতে।
৩০ জুন, ১৮৯৪ টাওয়ার ব্রীজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ততোদিনে রাজকোষ থেকে বেরিয়ে গেছে ১১ লক্ষ ৮৪ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড। আজকের বাজারে কতো শ’ মিলিয়ন কে জানে!
ব্রমটন, অন্টারিও, কানাডা

