২০০৫ সালে আমার আম্মা আর দুই খালার যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় সুবিধা বঞ্চিত ছেলে মেয়েদের জন্য প্রাইমারি স্কুল কার্যক্রম। সম্ভবত তাঁরা তিনজনই শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন বলেই, কিংবা নিজেদের ছেলেমেয়েরা সচ্ছল পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিল বলেই তাঁরা এই উদ্যোগটা নেয়ার তাগাদা অনুভব করেছিলেন। পরবর্তীতে কিংবা প্রায় প্রথম থেকেই আমার সমবয়সী আমের মামা, মা খালাদের এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু নিজস্ব পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি এই সব উদ্যোগে সামিল হতে পারিনি।
আজ পনেরো বছর পর হয়তো স্কুলটা চলছে কিন্তু ভেতরকার ভিত মজবুত হয়নি।
স্কুল পরিচালনার পাশাপাশি গরীব শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বইপত্র, জামাকাপড়, খাবার দাবার কিনে দেয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি অনেক কিছুই করেছেন। কিন্তু এই উদ্যোগকে টেকসই করার তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বলা যায় ইনফরমাল বা অনানুষ্ঠানিক ভাবে কাজ চলছিল।
গত বছর পরবর্তী প্রজন্মের কয়েকজন অর্থাৎ আমার কাজিন মেহজাবিন, অগ্রজ এহসান ইমদাদ এবং আমি সরাসরি মা খালাদের এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হই। এছাড়াও এই ট্রাস্টের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে সহায়তা করছেন অন্যান্য মামা, খালা এবং মামীরা। এই সব কার্যক্রমকে টেকসই করার জন্য তৈরি করা হয় মানবায়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট।
আমরা শিগগিরই একটা ট্রেনিং সেন্টার এবং ডিজিটাল লাইব্রেরী করছি। আমরা মনে করি পড়াশোনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এইসব সুবিধাবঞ্চিত ছেলে মেয়েদের স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব হবে।
এই ধরণের কল্যাণ মূলক কাজের দুটো ভালো দিক আছে। প্রথমটা হলো নি: স্বার্থ দানের মাধ্যমে নির্বান লাভ করা সহজ হয়। অর্থাৎ আপনি একধরনের শান্তি অনুভব করবেন, যা অন্য কিছুই আপনাকে দিতে পারবে না। আপনার মধ্যে শূন্যতা বলে আর কিছু থাকবে না। দ্বিতীয় ভালো দিক হলো, দান দাতাকে বিপদ আপদ, অসুখ বিসুখ এবং বালা মুসিবত থেকে সুরক্ষা দেয়।পবিত্র কোরআন শরীফেও যাকাত, সদকা এবং দান করার জন্য তাগাদা দেয়া হয়েছে।

