
সায়ীদ জাদিদ দাদা শেষ পর্যন্ত চলেই গেলেন। আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন তিনি। কিছু দিন আগেও দাদাকে একটি অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রন করার জন্য টেলিফোন করেছিলাম। তিনি বললেন, রেজাউল, আপনাকে একটা কথা বলা হয়নি। আপনি নিমন্ত্রন করেছেন বলে এইজন্য আপনাকে বলতে হচ্ছে। আমার ক্যান্সার ধরা পড়েছে । চিকিৎসা চলছে। আমাকে এমন হাইডোজের মেডিসিন দেওয়া হয় যে সেগুলি নেওয়ার পর আর শক্তি থাকে না। তখন কিছুই ভালো লাগে না। তাই আমি মনে হয় আসতে পারবো না। যদি দেখি ভালো বোধ করছি তবে অবশ্যই আসবে।
সেই নিমন্ত্রনের তারিখ ছিল ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ। এই কয়মাসের মধ্যে তিনি চলে যাবেন তা ভাবতেই পারিনি।
তিনি আমার ফেসবুকের লেখা পড়তেন। অনেক সময় মন্তব্য করতেন। অনেক সময় দ্বিমতও করতেন। অনেক সময় হাস্যরস করতেন। আমি এই মানুষটিকে মনে প্রানে শ্রদ্ধা করতাম। একজন অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার থেকে এক বিন্দুও বিচ্যুত হননি। তিনি যে নীতি,আদর্শ ধারন করতেন তা থেকে তিনি এক চুলও নড়েননি। এমন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি। ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন।
আমার দেখা আপাদমস্তক ভিতরে, বাইরে একই রকম মানুষ ছিলেন সায়ীদ জাদিদ দাদা। বাংলাদেশী-কানাডিয়ান কমিউনিটিতে যে কয়জন হাতে গোনা খাটি এবং অকৃত্রিম মানুষ আছে সায়ীদ জাদিদ দাদা তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে থাকবেন।
মন খুব ভারাক্রান্ত, চোখ ঝাপসা হয়ে আসে দাদা আপনার কথা মনে হলে। আপনি আমার হৃদয়ে থাকবেন।
বিদায় এবং বিনম্র শ্রদ্ধা আমার প্রিয় সায়ীদ জাদিদ দাদা ।অন্তর থেকে ভালোবাসা। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।
স্কারবোরো, অন্টারিও, কানাডা
