আমি যখন স্কুলে পড়ি ক্লাস নাইন/টেনে তখন ঢাকায় বেড়াতে ইচ্ছা করতো। ঢাকা ছিলো অনেক দূর। ম্যাট্রিক পাশ করার পর প্রথম সুযোগ হলো। সে সময় ঢাকা সাতক্ষীরা কোচ চলতো তা ছিলো কাঠ বডি, পরে প্রগতির তৈরী কোচ চলতো। যেদিন আমি প্রথম কোচে উঠি সেদিন ছিলো ৫ মার্চ ১৯৭৫।
মনে পড়ে রাত ৩টায় বাসা থেকে এসে রাস্তার উপরে দাঁড়ালাম সাথে ছিলেন মোস্তফা হুজুর। হুজুর খুব দরদী মানুষ ছিলেন। আমাকে যত্ন করেই নিয়েছিলেন সাথে। একটা হারিকেন হাতে উচিয়ে টিকেট ধরে দাঁড়াতে হয়েছিলো যাতে চালক মহোদয় আমাদেরকে সনাক্ত করতে পারেন যেন আমরা তার কোচের যাত্রী। সকালে সুপারভাইজার সকলের হাতে নাস্তার প্যাকেট দিলেন তাতে ছিলো ক্রীম বনরুটি আর একটা মিষ্টি ও কলা। ওটা খেয়ে কামারখালী ঘাট পর্যন্ত গেলাম।
কামারখালী ঘাটে কত লম্বা সারি বাস, ট্রাকের। একটু একটু করে এগোয়। আমি বাইরে নেমে কিছু কিনে খেলাম।২ঘন্টা এখানে চলে গেল। ঘাট পার হয়ে বাস চলতে শুরু করলো। আমরা ফরিদপুর শহরে এলাম দুপুর বারোটায়। সবাইকে একটা ছোট লন্ঞে উঠানো হলো। নদীপথে ৩/৪ ঘন্টা চলে আমরা আরিচা এসে নামলাম। এর পর বাসে আরো ৩/৪ ঘন্টা পর যখন ঢাকা পৌছালাম তখন বিকাল ৫/৬ টা বাজে অর্থাৎ প্রায় ১৫/১৬ ঘন্টা পর ঢাকায় পৌছালাম। নিজেকে মনে হলো ক্লান্ত, বিদ্ধস্ত, মাথার চুলে রাস্তার ধুলায় জট লেগে গেছে।
কামারখালিতে ব্রীজ হলো সে সময় প্রত্রিকায় পড়েছিলাম যে, ঘাটে যাদের দোকান ছিলো, যারা ফেরী করে জীবিকা নির্বাহ করতো তারা ব্রীজ নির্মানে বাধা দিচ্ছে। এটা সত্য তাদের কিছুদিন কষ্ট হয়েছে কিন্তু পরে তারা বিকল্প কর্ম সংস্থান করে নিয়েছেন। আমরা যারা ঐ পথ দিয়ে ঢাকা আসি তারা নিশ্চয় দেখেছেন যে ঐ সব জনপদেও অনেক উন্নতি হয়েছে, হয়েছে ব্যপক কর্ম চান্ঞল্য সৃষ্টি । এসব কিসের জন্য হয়েছে? একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য হয়েছে।
কত কষ্ট করে ঢাকা থেকে বাড়ী যেতাম। আমরা দু ভাইবোন মেডিকেলে পড়তাম। ছুটিতে একসাথে বাড়ী যেতাম। ১২ ঘন্টার পথ। কত ঘুম যে দিতাম এই ১২ ঘন্টায়। কখনও আমার মাথা বোনের ঘাড়ে আবার তার মাথা আমার ঘাড়ে। অনেক সময় দেরীতে পৌছে দেখতাম বাবা মায়ের উৎকন্ঠিত মুখ।
২৫’জুন উদ্বোধন হ’ল পদ্মা সেতু। দেশ ছেড়ে দূরে আছি কিন্তু মন পড়ে থাকে দেশেই। সব খবরই রাখি স্বপ্নের বাস্তবায়নে কত কষ্ট, কত নিরাশা মন নিয়ে চলত হয়েছে। অবহেলিতদের জীবনের অবহেলা ফুরিয়ে গেছে অবশষে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ তার দৃড় সংকল্প এবং স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নের জন্য। অন্যান্যদের মতো আমিও এখন ৪ ঘন্টায় ঢাকা থেকে আমার বাড়ীতে পৌছাতে পারবো।
অনেক উচ্ছ্বাস মনে তা হয়তো লেখায় প্রকাশ হবেনা আর লেখাও বড় করবোনা। আমার এ লেখা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়বেনা তবুও লিখছি-পদ্মা সেতুর সাফল্য নিশ্চয় আপনাকে আরো অন্যন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগাবে। এবার দীর্ঘস্থায়ী বন্যা নিরসনে পদ্মা সেতুর মতো আরো একটা বড় প্রকল্প হাতে নিন তাহলে প্রিয় বাংলাদেশের সত্যিকার সোনার বাংলা হতে বেশী সময় লাগবেনা। সবার মতো আমিওতো সেই আশায় বুক বাঁধি।
ইনুভিক, কানাডা

