আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম না। সব সময় মানবিক বিভাগে ছিল আমার বিচরন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমি বিজ্ঞানের ছাত্র হলে ভালো হতো। বিজ্ঞান জানলে আমি অনেক কিছুই সহজে বুঝতে পাতাম।সাম্প্রতি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কিভাবে কাজ করে এটি নিয়ে ভাবছি। বিজ্ঞানের ছাত্র হলে সহজেই এর একটা ব্যাখ্যা দাড় করাতে পারতাম।
সায়ীদ জাদিদ দাদার ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে হঠাত করে চোখ পড়ায় দেখতে পেলাম সবুজ বাতিটা জ্বলছে। এর অর্থ, তিনি অনলাইনে আছেন। কেমন যেন বুকটা ধুকধুক করে উঠলো। তিনি তো মে মাসের ২৯ তারিখ আমাদের সবাইকে ফাকি দিয়ে চলে গেছেন অজানা এক জগতে। তিনি এখনো অনলাইনে আছেন!! তিনি জীবিত থাকলে তাকে অনলাইনে দেখে অবশ্যই নক করতাম। তাকে জিজ্ঞেস করতাম, দাদা,একটু বুঝিয়ে দিন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কিভাবে কাজ করে।
আমি নিশ্চিত তিনি যে ব্যাখ্যা দিতেন তা নিয়ে আমি আমার মনের যে কৌতুহল এবং জিজ্ঞাসা তা শতভাগ নিবৃত করতে পারতাম। তিনি বিজ্ঞান মনোস্ক মানুষ ছিলেন। তার প্রায় লেখাতেই বিজ্ঞানের প্রকাশ ছিল খুব সাবলীল এবং শক্তিশালী।
তিনি ছিলেন আমার চেয়ে অনেক বড় এবং প্রবীণ কিন্তু সব সময় ছিলেন অতি নিকট বন্ধুর মতো। আমার প্রায় লেখাতেই তিনি দ্বিমত পোষণ করতেন। কারন, আমি বিজ্ঞানের পথে হাটছিলাম না। আমি সেখান থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য পথে হাটছিলাম। সেটি তার পছন্দ ছিল না একদমই।
যাই হোক, দাদা নেই।এই মূহুর্তে তার অভাব অনুভব করছি দারুনভাবেই।
তবে নিজে নিজেই জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের একটা ব্যাখ্যা বের করার চেষ্টা করেছি। আমরা সাধারণ টেলিস্কোপে চোখ রেখে রাতের আকাশের দিকে তাকালে সব তারা গুলিকে খুব কাছাকাছি দেখতে পাই । যে সপ্তোষী মন্ডলকে আমরা সাধারণ চোখে দেখতে পারি না, তাকে আমরা একটি সাধারণ মানের টেলিস্কোপ দিয়ে পরিষ্কার দেখতে পারি।
তাহলে, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যদি একটি সাধারণ মানের টেলিস্কোপের চেয়ে লক্ষ লক্ষ গুন বেশি শক্তিশালী হয় তাহলে কি হবে একটু বুঝার চেষ্টা করুন।৯০ হাজার কোটি টাকার এই টেলিস্কোপ এমনি এমনি নির্মাণ করা হয়নি। এই টেলিস্কোপের উদ্দেশ্য হচ্ছে পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে মহাজাগতিক বিষয়গুলিকে জানার চেষ্টা করা।।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কিভাবে কাজ করে? এই বিষয়ে অনেকের মতো আমারও জানার ইচ্ছা রয়েছে। আমি সাধারন জ্ঞানে যৎসামান্যই বুঝেছি। কয়েকটি উদাহরণ দিলে হয়ত বিষয়টি বুঝানো সম্ভব হবে।
পৃথিবীতে সূর্যের আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। অর্থাৎ আমরা যে সূর্যের আলো দেখি তা সব সময় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড past। পৃথিবী থেকে সবচেয়ে নিকটতম তারার নাম হচ্ছে প্রক্সিমা সেন্টারাই। এর আলো পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে ৪ বছর। অর্থাৎ আমরা প্রক্সিমা সেন্টারাইয়ের যে আলো দেখি তা আসলে ৪ বছরের পুরোনো আলো।
আলোর এই যে পরিভ্রমণ পথ তাকে কাউন্ট করা হয় আলোকবর্ষ দিয়ে। এক বছরে আলো যে পরিমান পথ পরিভ্রমণ করে তাকে বলা হয় এক আলোকবর্ষ। পৃথিবী থেকে অনেক তারকাপুঞ্জির অবস্থান হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে।
আলোর এই পথ পরিভ্রমণের পথে যদি কোন টেলিস্কোপ প্রতিস্থাপন করা হয় তবে এই পরিভ্রমণের মধ্যে যা কিছু হচ্ছে বা ঘটছে তার ছবিকে ধারণ করা সম্ভব। এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে আলোর যে পরিভ্রমণের কক্ষ পথ তার অতীতে চলে যাওয়া সম্ভব।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সূর্যের আলো আসতে পৃথিবীতে লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। সূর্যের এই আলো পৃথিবীতে আসার যে পরিভ্রমণ পথ সেই পথে যদি সিসিটিভি ক্যামেরার মত কোন টেলিস্কোপ প্রতিস্থাপন করা হয় তবে কি তা ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের আলোর পরিভ্রমণ পথের অতীতে গিয়ে সেই সবের দৃশ্য ধারন করতে পারবে না? অবশ্যই পারবে, নয় কি? এই ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের জায়গায় আপনি যদি ১৩০০ কোটি আলোকবর্ষ ভাবেন তবে একই রকম ভাবে আলোর এই পরিভ্রমণের পথে অত্যন্ত শক্তিশালী টেলিস্কোপ প্রতিস্থাপন করা হলে ১৩০০ কোটি বছর আগের মহাশূন্যের নক্ষত্র পুঞ্জির দৃশ্যও ধারণ করা সম্ভব।
জানি না আমার এই বোঝার মধ্যে ভুল আছে কিনা। আমি বিষয়টিকে এইভাবেই নিজের কাছে নিজে ব্যাখ্যা করেছি।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কিভাবে কাজ করে
- Advertisement -

