
সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। রাস্তার ধারের দোকান আর বাড়িগুলোর আলো জ্বলতে শুরু করেছে। আর একটু পরেই আলো ঝলমল রাতের ঢাকা নিজস্ব রুপে প্রকাশ পাবে। ডালিম উঠে দাড়ালো। তার স্টপেজ এসে গেছে। এখান থেকে হেঁটে যাওয়া যায়। এখন হাঁটতে ইচ্ছে করছে না। রিকশায় উঠে তাড়া দিলো, মামা একটু তাড়াতাড়ি যান।
ফ্লাটে সে আর আনিস থাকে। দু’জনে সুস্থ আছে। তবে কি অন্য ফ্লাটে কিছু হয়েছে। ডালিম আর কিছু চিন্তা করতে পারছিলো না। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর বেশ ক্লান্ত লাগছে। সকাল সকাল অফিসে যেতে হবে। আজকের জমে যাওয়া কাজগুলো শেষ করতে হবে। বাসায় কি ঝামেলা হল কে জানে।
রিকশা হঠাৎ থামতেই ডালিম বলল, মামা আর একটু সামনে যান। রিকশাওয়ালা কিছু বলল না। সামনে কি যেন দেখছে। ডালিম সামনে তাকালো। পুলিশের গাড়ী দাঁড়িয়ে আছে। তাদের বাসার সামনে।
মামা, আর একটু সামনে যান।
না, আর সামনে যাবো না। পুলিশের ঝামেলার মধ্যে যেতে চাই না। মাত্র তো একটু দূর। আপনি এখানেই নামেন।
ডালিম ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়লো। বাসার সামনে পুলিশ! ব্যাপার কি? তবে কি বাড়িওয়ালার ছেলে রবিন কোন ঝামেলা করেছে? ছেলেটাকে তেমন সুবিধার মনে হয়না। সারাদিন মোড়ের দোকানটায় বসে থাকে। ডালিম সামনে এগুলো। গেটের সামনে দু’জন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে।
কাকে চাই?
আমি এই বাসায় থাকি।
কোন ফ্লাটে?
ছাদের ফ্লাটে।
ফ্লাটের কথা শোনামাত্র পুলিশ দু’জন ডালিমকে শক্ত করে ধরে ভেতরে নিয়ে গেলো। সিঁড়ির কাছে আরো কয়েকজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে।
স্যার, এই লোকটা ছাদের ফ্লাটে থাকে।
পুলিশ অফিসার ডালিমের কাছে এগিয়ে এলো। ছেড়ে দাও। আমি কথা বলছি। তোমরা গেটের কাছে যাও।
আপনার নাম ডালিম?
জি।
হুম, আসুন আমার সঙ্গে।
ডালিমকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ অফিসার উপড়ে এলো। ছাদের দরজায় আরো একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। ছাদের মাঝখানে একজন পুলিশ বসে আছে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। আরেকজন পুলিশ পাশে দাঁড়িয়ে কিছু বলছে। আরো বেশ কিছু অপরিচিত মানুষ। দু’জন লোকের হাতে ক্যামেরা। শাড়ি পড়া একজন মহিলা বসে কাঁদছে। ডালিমকে দেখে বাড়িওয়ালা বলে উঠলো, স্যার এই লোকের নাম ডালিম। চেয়ারে বসা পুলিশ অফিসার উঠে এসে জিজ্ঞাসা করলো, ‘আপনার নাম ডালিম’?
ডালিম ভয়ে কোন কথা বলতে পারলো না। শুধু মাথা নাড়লো।
আপনি এই ফ্লাটে থাকেন?
ডালিম আবার সম্মতি সূচক মাথা নাড়লো।
কতদিন চাকুরি করছ? এখনো হাতকড়া পড়াও নি কেন? পুলিশ অফিসার হুংকার দিলো।
নির্দেশ পাওয়া মাত্র ডালিমের সংগে আসা পুলিশ হাত দু’টো পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে দিলো। ভয়ে ডালিমের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেলো। আনিসকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
স্যার, কি হয়েছে?
ডালিম জিজ্ঞাসা করতেই একজন পুলিশ তেড়ে এলো।কি হয়েছে? হারামজাদা, কিছু জানো না, না? দাঁড়া এখনি তোর জানার ব্যবস্থা করছি। শাড়ি পড়া যে মহিলা কাঁদছিলো দৌঁড়ে এসে ডালিমকে মারতে লাগলো, আমার দুধের মাইয়াটারে কেন মারলি?
পুলিশ মহিলাকে সরিয়ে নিলো। অফিসার হুংকার দিলো, ‘এখন কোন ঝামেলা করবেন না। আমাদেরকে কাজ করতে দিন’।
