
বেশ কিছুকাল আগে মন্ট্রিয়েলে একজনের সাথে দেখা হয়েছিল। তিনি আমার অনেকদিনের চেনাজানা। উনি দেশ হতে আসার আগে কল দিয়ে ডিটেইলস জানিয়ে রেখেছিলেন। দীর্ঘকাল পর দেখা হওয়ায় মন্ট্রিয়েলের ডাউনটাউনের এক চারতারকা হোটেলে লম্বা আড্ডা হল। গভীর রাতে বিদায় নেয়ার সময় তাঁর আহবানে ‘ নিস্পাপ একটা ছবি ‘ তুলেছিলাম। ছবিটি উনি আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পর সেইসময় ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম।
কিন্ত এক ছোটভাই ( বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের ম্যানেজার) ছবি দেখে জানালেন,ভাই সর্বনাশ, অইলোক কি হয় আপনার?
আমি না বুঝে জানতে চাই, সর্বনাশ কিসের?
অইলোক তো আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। বড় ব্যবসায়ী।
– ভাই, আপনি যতোটা সহজ সরলভাবে তাকে চেনেন, তিনি কিন্ত তা নন। সে দেশের শত্রু। আপনি ভাল মানুষ, তাঁর সাথে আপনাকে দেখে চমকে গেছি।
একথা শুনেই আমি আঁতকে উঠি।
কি বলো, আমি তো আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না।
এরপর আমার সেই ছোটভাই সংক্ষেপে যা জানালো, আমি রীতিমতন বিস্মিত ও অবাক হয়েছি।
– “অইলোক, দেশের একটি ব্যাংকের দুইশত কোটি টাকা ঋন নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। অই ব্যাংকটির চেয়ারম্যানও পালিয়ে কানাডায় আশ্রয় নিয়েছে। শুধু একটি ব্যাংক নয়, জানামতে আরো দুইটি ব্যাংক হতে শতকোটি টাকার ওপর ঋন নিয়ে আত্মসাৎ করেছে এবং দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে। কিন্তু ঋনের ১টাকাও ফেরত না দিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনার পরিচিত সেই লোক
আমার ব্যাংকের ঋনও শোধ করেনি। বুঝলেন ভাই, কেন তাকে দেশের শত্রু বলেছি? ”
ছোটভাইয়ের সাথে কথা শেষে দ্রুত ফেসবুক স্ক্রল করে ছবিটি দেখলাম। একেবারে হাটুর বয়সী অইলোক, কিভাবে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেল?
উপলব্ধি : যার তার সাথে ছবি তোলা রিস্কি। কারণ আপনি হয়ত জানেনই না,সে ব্যক্তি দূর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারী, ব্যাংক লুটেরা, খুনী, লুইচ্চা, ধর্ষক, প্রতারক কিংবা ভয়ংকর কিছু। অতএব, বুঝে শুনে বিপদ এড়িয়ে চলতে হবে।
১১.০৬.২০২৪
মন্ট্রিয়েল
