
নিউইয়র্ক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলো চারদিনব্যাপি। গেলো ২৪ থেকে ২৭ মে চারদিনই নানান আনুষ্ঠানিকতায় আমি উপস্থিত ছিলাম জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টার চত্বরে। বহু তরতাজা স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে ফিরে এসেছি অটোয়ায়। আস্তে ধিরে লিখবো সেইসব কাহিনি।
নিউইয়র্ক বইমেলায় এক বিকেলে শামীম আল আমিন উপস্থাপিত খুবই আকর্ষণীয় বিতর্ক অনুষ্ঠানে পর্যবেক্ষক হিশেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলাম। ‘প্রবাসে সাহিত্যচর্চা মূল্যহীন’ শীর্ষক সেই বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন একদা বিতর্কের ভুবনের খ্যাতিমান মানুষেরা, যাঁরা এখন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করেন। সঞ্চালক শামীমও বিতার্কিক ছিলেন। বিতর্কের পক্ষ-বিপক্ষের তালিকাটা ছিলো এরকম বিরূপাক্ষ পাল, সেজান মাহমুদ, বিলকিস রহমান দোলা, মোহাম্মদ নাকিবউদ্দিন, আহকাম উল্লাহ এবং নাজনীন আহমেদ। এরা প্রত্যকেই আমার বিশেষ প্রীতিভাজন। সম্পর্কটাও প্রায় চার দশকের।
অডিটোরিয়ামে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা সেদিন প্রাণভরে উপভোগ করেছেন বইমেলার অত্যন্ত আকর্ষণীয় সেই রম্য বিতর্ক-অনুষ্ঠানটি।
পর্যবেক্ষকের সমাপনী বক্তব্য রাখার সময় আমি প্রিয় নাকিবউদ্দিনের বিস্তৃত টাকের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় গিয়ে দর্শক-শ্রোতার তুমুল করতালি আর উল্লাসের হুল্লোড়ে দেখতে পাচ্ছিলাম নাকিবসহ বিতার্কিকদের উচ্ছ্বাসও। বিষয়টার ‘বডি শেমিং’-এর তকমা প্রাপ্তির সম্ভাবনাকে নাকচ করতে আমি মাথা নিচু করে দ্রুত বিকাশমান আমার টাকচিক্য তথা টাক-এর চাকচিক্যও প্রদর্শন করেছিলাম বিপুল উদ্যমে। তাতেও দর্শক-শ্রোতার হাস্য-কলরোল্লাস আর করতালির সমর্থন ছিলো ব্যাপক।
অটোয়ায় ফিরে এসে পুরুষদের এক জীবনের দুঃখ এই টাক-সমস্যা নিয়ে একটা ছড়া লিখলাম কিছুক্ষণ আগে। ছড়াটা উৎসর্গ করছি বাংলাদেশ টেলিভিশনের দর্শকপ্রিয় কুইজ অনুষ্ঠান ‘বলুন দেখি’র উপস্থাপক মোহাম্মদ নাকিবউদ্দিনকেই।
ফেসবুক পাঠকদের জন্যে, বিশেষ করে আমার মতোই প্রতিশ্রুতিশীল টেকোদের বেদনা লাঘবের উদ্দেশ্যে ছড়াটা এখানে তুলে দিলাম–
টাক সমাচার
লুৎফর রহমান রিটন
পর্যায়ক্রমে চুল কমে কমে
হয়ে গেছো তুমি টাক্লা?
সেই শোকে জানি হাসিমুখখানি
দুখি দুখি করে রাখলা!
চুলহীন মাথা হে হতাশ ভ্রাতা
ক্যানো ক্যাপ দিয়ে ঢাকলা!
চুল নাহি থাক পড়ে যাক টাক
কেনো সেটা গায়ে মাখলা?
কতো শতো লোকে গেলো পরলোকে
আর তুমি বেঁচে থাকলা!
এ জীবনে ভাই বেঁচে থাকাটাই
প্রায়োরিটি পায়। টাক না।
এসো প্রাণে প্রাণে বাঁচি হাসি-গানে
মাথা চুলহীনই থাক না!
অটোয়া ০৮ জুন ২০২৪
[আলোকচিত্রী : মিজান রহমান

