
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।
ওপরের কবিতাংশটি ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের। ওই গল্পে মানবপ্রেমে আদর্শ-ধারা (অমিত ও লাবণ্য) বনাম বাস্তব-ধারা (শোভনলাল ও লাবণ্য)-র মধ্যে তুলনায় না গিয়েও অবশেষে বাস্তব-ধারার গলায় মালা পরিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ।
আমাদের বাংলার শিক্ষক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ একবার একটা ক্লাসে ‘শেষের কবিতা’ নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, একে যতবার পড়ি ততবার নতুন নতুন অর্থ নিয়ে হাজির হয়। বর্তমানে দেশের অবস্থা দেখে কবিতার ওই চরণগুলো আমার কাছে নতুন অর্থ নিয়ে হাজির হয়েছে।
গত কয়েকদিনে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের কয়েকটা সাক্ষাৎকার দেখলাম। এখানে বলে রাখি তিনি আমার প্রিয় মানুষদের একজন। তাঁকে জেনে এসেছি, বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের পথিকৃত, দেশের নদী-নালা-বন-জঙ্গলের একটা আদর্শরূপ তাঁর অন্তরে। অনেকটা শেষের কবিতা উপন্যাসের নায়ক অমিতের মতো, দূর্দান্ত। লাবণ্যরা তাতে দ্রুত আকৃষ্ট হতে বাধ্য। হয়ও। ড. ইউনুসের সাথে মিলে কেবল পরিবেশকে আদর্শরূপ দেওয়া না, পুরো রাষ্ট্রের আদর্শরূপ দিতে তিনি দিন-রাত খাটছেন। উপন্যাসের রোমান্টিক পর্বে অমিত-লাবণ্যের সুন্দর পরিণতির বিষয়ে আমাদের মতো হাজার-হাজার পাঠকের মতো তিনিও আশায় আশায় পাতা উল্টাচ্ছেন; হয়তো এখনও জানেন না রবীন্দ্রনাথের মনের কথা; কিন্তু, আমরা জানি, শেষতক অমিতকে ফিরে যেতে হয়েছিল কেটকির কাছে, আর লাবণ্যও বুঝতে পেরেছিল, আদর্শপ্রেম ধরাছোঁয়ার বাইরে, বরং সকল সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে পুরুষ দন্ডায়মান, তাকেই বরণ করে নিতে হয়।
সংসার ও রাজনীতিতে আদর্শ বলে কিছু নাই। যা আছে, তা হলো সমঝোতা।
ক্যালগেরি, আলবার্টা
