সম্পর্কের টানাপোড়েন

লতিফুল কবীর

ভারতের বিচ্ছিন্ততাবাদীদের বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না মর্মে মীর্জা ফখরুল ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন। আশা করতে পারি ভারত তাতে বারোআনা আস্থা রাখতে পারবে। বিএনপির সাথে ভারতের বরফ গলার জন্য সেটাই বা কম কি!

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন নতুন কোন বিষয় না, পানি কিংবা সীমান্তে হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের মন খারাপ বহু বছরের; কিন্তু, ২০০১ এর পরে ভারত এক অচেনা বাংলাদেশকে দেখেছিল। নির্বাচন-পূর্ব চারদলীয় জোটের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ‍উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যকে নিয়ে বাংলাদেশের উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট করার জায়গা থেকে সরে গিয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল ওই রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্ততাবাদীদের বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে শক্তি বৃদ্ধি করার দিকে। বিএনপি তার আগে দু-বার ক্ষমতায় ছিল।

- Advertisement -

ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংকটকে জিয়া (১৯৭৭-৮১) কিংবা খালেদা জিয়ার সরকার (১৯৯১-১৯৯৬) উপেক্ষা করেছে বলে কেউ দাবি করে না। ২০০১-এর খালেদা জিয়ার সরকারে জামাতের প্রভাব কতটা প্রবল ছিল তার প্রমান হচ্ছে উলফাদের জন্য আনা দশট্রাক অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দরে হাতেনাতে ধরা পড়া; যা কিনা বিএনপি নামক ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দি দলটিকে ভারতের শত্রুতে পরিণত করে।

ভারত তো বটেই, যেকোন দেশের বিরুদ্ধে প্রক্সিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জন্য নির্বুদ্ধিতা। সেই ঘটনার রিকনসিলিয়েশন করার সুযোগ বিএনপি পেয়েছিল; ২০১২ সালে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া ভারত সফরে গেলে তাঁকে রাজকীয় সম্মান দিয়েছিল ভারত। সফর সফল ছিল মর্মে খালেদা জিয়ার তরফে জানানোও হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, পরবর্তীতে কোন বিবেচনায় তাকে বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল, বিএনপির উচিত সেটা খুঁজে বের করা। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রথম বাঁকবদল ঘটে বিএনপিকে ভারতের শত্রু পরিণত করার জামাতি কৌশল সফল হওয়ার সেই ঘটনার পর থেকে। আওয়ামী লীগ ছাড়া ভারতের তখন কোন ভরসা ছিল না, ডিম নিয়ে তারা কত জায়গায় ঘুরেছে; কিন্তু, রাজনৈতিক জায়গা থেকে কেউই বিএনপির বিকল্প হয়ে ওঠতে পারেনি।

যুদ্ধের পর কলকাতা থেকে ফিরে মাওলানা ভাসানী তাঁর চিরাচরিত ভারত বিরোধীতায় ব্যস্ত হয়ে গেলে তাজউদ্দীন আহমেদ তাঁকে ”এত ভারত বিরোধীতায় নেমেছেন কেন?” জিজ্ঞেস করলে ভাসানী বলেছিলেন, “আমি না করলে অন্য কেউ করবে। সেটা তোমাদের জন্য ভালো হবে না।”

বাংলাদেশের মানুষ নানা কারণে ভারতের বিরোধীতা করবে, হিন্দুদের নিয়ে সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করবে; সেটা ভারতের রাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলেই যায়। কিন্তু, নিরাপত্তায় আঘাত? কোন দেশই সেটা সহ্য করবে না। মীর্জা ফখরুলের উপলব্ধিকে স্বাগত জানিয়ে বলতে হচ্ছে, ২০১২ সালে বিএনপিকে লক্ষ্যচ্যুত করার জামাতি কৌশল সফল না হলে বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে আজ অনেকটা পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হতো বলে আমি বিশ্বাস করি।

ক্যালগেরি, আলবার্টা

- Advertisement -

Read More

Recent