
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামালভাইয়ের ইউটিউব ভিত্তিক চ্যানেল একটি জরিপ চালিয়েছিল। এতে প্রায় ৬৯ হাজার দর্শক অংশ নেয়। জরিপে ৫টি রাজনৈতিক দলের নাম দিয়ে বলা হয়েছিল, এই মুহুর্তে নির্বাচন হলে ক্ষমতায় কাকে দেখতে চান?
অবাক কান্ড হচ্ছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৩ শতাংশ ভোট বা মতামত প্রতিফলিত হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষে। স্বৈরাচার পতনের তিন মাস না যেতে, রক্তের দাগ না শুকাতে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগকে কেন বেছে নিয়েছে? সেই বিষয় ব্যাখ্যার দাবী রাখে।
জরিপে দ্বিতীয় স্থানে জামায়াত, তাদের ভোট দিয়েছে ৩১ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে বিএনপি । তাদের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৮ শতাংশ।
জরিপের পুরো ফলাফল আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। কিন্ত সবার ধারণা আগামী নির্বাচনে মানুষ ক্ষমতায় বিএনপিকে দেখবে। গত ১৫ বছর দলটির ওপর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার চরম নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছিল। আন্দোলন সংগ্রামে তারা রাজপথে দাঁড়াতে পারেনি। স্বৈরাচার হটাতে তাদের অসংখ্য কর্মী জীবন দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের মামলা মোকদ্দমায় দিনের পর দিন জেলে পুরে রাখা হয়েছিল। তারপরও দলটি স্বৈরাচার হটাতে বিন্দুমাত্র পিছু হটেনি। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি হয়ত আগামী নির্বাচনে জয়ী হবে এবং সরকার গঠন করবে। কিন্ত আমার মনে হয়, মানুষ বিএনপির বর্তমান কার্যকলাপে হতাশ। সারাদেশে বিএনপির নামে তাদের লোকজন যে হারে দখল, চাঁদাবাজি করছে তাতে মানুষ তাদের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসায় জানা যায়, সারাদেশে দলটির কর্মীরা বাসস্ট্যান্ড, মার্কেট, বাজার,হাট,খেয়াঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,বালুমহাল, জমি দখল করেছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে বিএনপি এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ক্ষেত্র বিশেষে নেয়া কয়েকটি পদক্ষেপ প্রশংসা পেলেও বাকী
কর্মীদের কঠোরহস্তে দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। দলটিকে ক্ষমতায় আসতে হলে চাঁদাবাজ,দখলবাজ,লুটেরা কর্মীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া তাদের রাজনীতির জন্য জরুরি।
এই জরিপের ফল নির্বাচনের প্রভাব পড়বে কিনা জানি না। তবে বিএনপির জন্য পুরো বিষয়টি এর্লামিং।
জামায়াতের উত্থান বিস্ময়কর হলে মোটেও অবাক হয়নি।গত ১৫ বছর প্রকাশ্যে তাদের কোন কার্যক্রম না থাকলেও গোপনে দলটি সংগঠন গুছিয়েছে। ৫ আগস্টের পর সংগঠন হিসেবে তারা প্রকাশ্যে এসে সাংগঠনিক শক্তির আভাস দিয়েছে। পূর্ব হতেই তাদের একটা ভোটব্যাংক রয়েছে। এবার নির্বাচনে ইসলামীদল নিয়ে মোর্চা গঠন করে তারা যদি দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে আর্বিভুত হয়, এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।
আওয়ামীলীগের পক্ষে এই ফলাফল হচ্ছে বিগত সময়ে সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষগুলো এখনো ঘাপটি মেরে আছে। জরিপে তাদের অংশগ্রহণই ভোটের এই প্রতিফলন। যদি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আসার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে দলটি ভাল করলে বিস্মিত হব না। কারণ নির্বাচন এলে এ জাতি সব ভুলে যায়। পুরাই গোল্ডফিশ মেমোরি তাদের।
যাহোক, অনেকেই বলবেন নির্বাচন অনেকদূর। এসব জরিপ কিছুই না। হ্যাঁ, কিন্তু ৫ আগস্টের পর গণভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের বিপরীত ক্রিয়ায় মানুষ হতাশ হলে সবকিছুই ভেস্তে যাবে।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
