
এক
পচাত্তর পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৮১ সালে। সে বছর মে মাসের সতেরো তারিখে আকাশে ঘণ বৃষ্টিকে সাথে করে ঢাকায় নামেন। তারপর, নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। অর্জন আর বিসর্জনের লম্বা খতিয়ানে ভরপুর তাঁর রাজনৈতিক জীবন। এবছর ৫ই আগস্টকে যদি ধরা হয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সেরা বিসর্জন, তো বাংলাদেশের মানচিত্রকে পূর্ণ করাটা ছিল তাঁর জীবনের সেরা অর্জন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ র্যাডক্লিফ যে মানচিত্র দিয়ে পূর্ব বাংলাকে ভারতবর্ষ থেকে আলাদা করেছিলেন, সেটাই ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র হিসেবে স্বীকৃত হয়। ছিটমহল নামক এক পিকুলিয়ার সমস্যা সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই পূর্ব বাংলার ঘাড়ে চেপে বসেছিল। পাকিস্তানিরা এর সমাধান করেনি। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির মাধ্যমে সমস্যা দূর করার সূচনা হলেও পরবর্তী বাংলাদেশের কোন শাসক তাকে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। ২০১৫ সালের ১ অগাস্ট হাসিনা-মোদির হাত দিয়ে সেই চুক্তি কার্যকর হয়। ভারতকে তাদের সংবিধানের সংশোধনও করতে হয়। ছিটমহল বিনিময়ের পরে বাংলাদেশের মানচিত্রে ১০ হাজার একর বাড়তি জমি যুক্ত হয়। শুধু কী তাই, ছোট যে সীমান্ত বার্মার সাথে, সেখানেও সমস্যা জিইয়ে রেখেছিল পাকিস্তানিরা। ১৯৭৪ সালে চুক্তির মধ্য দিয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের অধিকারে আসে। আর সেন্ট-মার্টিনের কারণে মহীসোপান (অর্থাৎ গভীর সমুদ্রে) বাংলাদেশ অর্জন করে বিস্তৃত অঞ্চল। সেটাও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আজ শেখ হাসিনার জন্মদিন। এই দিনে জাতির বিশেষভাবে স্মরণ করা উচিত আমাদের মানচিত্রকে পূর্ণতা দেওয়া সেই শেখ হাসিনাকে।
দুই
যারা আকাম করে, কেবল তাদেরই রিসেট বাটন লাগে। ভুল সংশোধন তথা সংস্কার যে কোন সিস্টেমের অপরিহার্য অংশ। এর আরেক নাম কন্টিনিউয়াস ইমপ্রুভমেন্ট; যার উদ্দেশ্য, বিদ্যমান সিস্টেমের সীমাবদ্ধতাগুলোকে অতিক্রম করা। রিসেট বাটনে চাপ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার পেছনে আমেরিকা এবং জামাতকে খুশি করা ছাড়া অন্য কোন উপযোগিতা নাই। ড. ইউনুস একজন কর্পরেট প্রতারক; একদিকে জামাতের পেশিশক্তি এবং ধোঁকাবাজি, অপরদিকে মার্কিন জিও-পলিটিক্সের উপর ভর করে ক্ষমতা দখল করেছেন, এবং এক অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ধরে রাখার উদ্দেশ্য থেকে সমাজে বড় বড় বিভাজন তৈরীর ধান্দায় নেমেছেন। মাইট্রকন্ড্রিয়াল জিনের জেনেটিক বৈশিষ্টের কারণে প্রতারণাকে বাঙালি একদম সহ্য করতে পারে না। বাঙালিকে শাসন করার ইউনুস-জামাত-মার্কিন প্রকল্প ব্যর্থ হবে এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ তাকে একজন কুচক্রী হিসেবে মনে রাখবে।
তিন
৬৬৬ সংখ্যাটি নিয়ে বাংলাদেশ খুব ঝামেলায় আছে। মহাজন ৬৬৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে। আদালত মিমাংশা করতে ভয় পেয়েছে। পাওয়ারই কথা।
যারা ছোটবেলা ড্রাকুলা সিরিজ পড়েছে, তাদের স্মরণে আছে সংখ্যাটি। বাইবেলে রিভেলেশন ১৩:১৮ অধ্যায়ে ৬৬৬ উল্লেখ করা হয়েছে। খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বে এটি শয়তান, অ্যান্টিক্রাইস্ট এবং অপশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের মতে, ৬৬৬ ত্রুটিপূর্ণতা বা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি এমন এক পশুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ঈশ্বরের শাসনের বিরোধী।
গণিতের সংখ্যাতত্ত্ব সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় ৬৬৬ কে ত্রুটিপূর্ণতার প্রতীক বলা হয়। বাইবেলের মনে করে ৭ সংখ্যা সম্পূর্ণতা বা পূর্ণতার প্রতীক, এবং ৬৬৬ এই সম্পূর্ণতা থেকে কম।
কিছু পণ্ডিত বিশ্বাস করেন, ৬৬৬ রোমান সম্রাট নিরোকে নির্দেশ করে, যার নাম হিব্রু গেমাত্রিয়ার (সংখ্যামূল্য নির্ধারণের এক পদ্ধতি) মাধ্যমে ৬৬৬ এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
ক্যালগেরি, আলবার্টা
