প্রসঙ্গঃ জাতির পিতা ও জাতীয় ঐক্য

প্রসঙ্গঃ জাতির পিতা ও জাতীয় ঐক্য

জাতি হিসাবে ইতিহাস থেকে এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় কিছুই শিখতে পারিনি। যার যা প্রাপ্য তাকে তা দিতে না পারার কারনে আমাদের জাতীয় ঐক্যের কোন এলাকাই অবশিষ্ট নাই। একজন মন্তব্য করছিলেন, পারলে আমাদের গোরস্তানটাও আলাদা হলে ভাল হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জাতীয় ঐক্য বিনষ্টে সবচেয়ে বেশী অবদান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। মুক্তিযুদ্ধে তারা অন্যদের অস্তিত্বই স্বীকার করে না, অবদান স্বীকার করা তো অনেক পরে। আমি নিজে অন্য কোন দলের দায়িত্বশীল নেতা বা নেত্রীর মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের বাইরে কোনদিন কুৎসাপূর্ণ কোন মন্তব্য শুনিনি। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রায় সব পর্যায়ের নেতারা সুযোগ পেলেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াকে নিয়ে কুৎসাপূর্ণ কুরুচিকর অনেক মন্তব্য করেছেন। জাতীয় সংদসদের অধিবেশন কক্ষে দাঁড়িয়ে পর্যন্ত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের এটা কোন মোক্ষম অস্ত্র হতে পারে না। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে জিয়াউর রহমানের কবর সংসদ ভবন এলাকা থেকে সরানোর সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করা হচ্ছিল। একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় মরহুম প্রেসিডেন্টের কবর সরানোর আয়োজন করবেন, আর নিজের পিতাকে তাদের পিতা বানানোর জন্য জোর জবরদস্তি করবেন, যুক্তি দিয়ে বলুন তারা মানবে কেন? আমি মনে করি, না মানা কিংবা জোর দবরদস্তির অবসানের লক্ষ্যে জাতির পিতা প্রশ্নে নিরপেক্ষ (তত্বাবধায়ক এখন বলা যাবে কিনা জানিনা) সরকারের অধীনে একটা রেফারেন্ডাম হওয়া উচিত, যাতে এই প্রশ্নের স্হায়ী সমাধান হতে পারে।

ধারনা করতে অসুবিধা হয় না, কট্টর আওয়ামী সমর্থকরা মনে করেন যারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মনে করেন না, তাদের সাথে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন নাই। আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। পরিসংখ্যানিক তথ্য আমাকে সেই সুযোগ দিচ্ছে। এটা মোটের ওপর সত্য যে, যারা আওয়ামী লীগ সমর্থন করে, তারা কখনো অন্য কোন দলকে বা অন্য কোন প্রার্থীকে ভোট দেয় না। যারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে না তারা বরং নানা সময়ে নানা দলকে বা প্রার্থীকে ভোট দেয়। যেটাকে আমরা তথাকথিত এন্টি আওয়ামী লীগ বলে থাকি। বিগত তত্বাবধায়ক সরকার সমূহের পরিচালিত সংসদ নির্বাচনগুলো এবং তারও আগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনগুলোর তথ্য বলছে দেশে এন্টি আওয়ামী জনসংখ্যা বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ট। গনতান্ত্রিক রীতি নীতির সামান্য তোয়াক্কা করলে আপনি এই বাস্তবতা অস্বীকার করতে পারেন না। পারলে হয়তো আপনি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু টেকসই বা স্হায়ী সমাধান করতে পারবেন না। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই কেবল এই প্রশ্নের মিমাংসা করতে হবে।

- Advertisement -

আওয়ামী লীগের অসৎ কর্মকান্ড ফলো করা তো আর সবার কাজ হতে পারে না। প্রতিটি দলের নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ এবং কর্মসূচী থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জাতীয় কিছু বিষয়ে দলগুলোর ঐকমত্যও থাকতে হবে। বিশেষ করে ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি একক দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তৈরী হওয়া দরকার।আমাদের কোন নেতা নেত্রীর মনে এই বিষয়গুলো কাজ করে বলে মনে হয় না।

কিছু মৌলিক বিষয়ে জাতীয় ঐক্য না থাকলে একটা জাতির মনন তৈরী হবে কিসের ভিত্তিতে!

 

হ্যামিল্টন, অন্টারিও

- Advertisement -

Read More

Recent