
এক
গণভ্যুত্থানের তিনমাস পার হয়নি। রক্তের দাগও শুকায়নি। এখনো সারাদেশের হাসপাতালে কয়েক হাজার আহত চিকিৎসাধীন। অনেকে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। এসময় বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীর অস্থির মনোভাব ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনাকাঙ্খার বিপরীতে অবস্থান নেয়া হবে মারাত্মক ভুলের রাজনীতির পুনারাবৃত্তি। যা দেশে গভীর সংকট ও অস্থিরতা তৈরি করবে। এর ফলে অর্ন্তবর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ব্যহত হবার সম্ভাবনাই বেশী। এতে করে লাভবান হবে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের পালিয়ে যাওয়া দল। এবং খুনির সাঙ্গোপাঙ্গোদের পূর্নবাসণের সুযোগ তৈরি হবে।
ইতোমধ্যে তাদের অস্থিরতা ও পতিত ফ্যাসিস্ট দলের প্রতি নমনীয়তার সুযোগে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরগুলো মাঠে না নামতে পারলেও নিরাপদে থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গণভ্যুত্থান, অর্ন্তবর্তী সরকার, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নানান কুৎসা, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে ও দেখে নেয়ার হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে আফসোস লীগের নিরীহ সেজে থাকা কিছু মুখচেনা সাংবাদিক, লেখক,অভিনয়শিল্পী। এরা প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনিয়ে বিনিয়ে সরকারের প্রতি বিষোদগার করছে। একই সাথে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া সাইকোপ্যাথ, খুনি ফোনালাপে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। সবই কিন্ত এর্লামিং।
দেশ সংস্কারের সুযোগ বারবার আসে না। গণভ্যুত্থানে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা সম্মিলিতভাবে কাজে লাগান।পতিত ফ্যাসিস্ট ও কোন অপশক্তি যেন রাজনীতিতে পূর্নবাসিত হতে না পারে সেদিকে সর্তক থাকুন। আপনাদের একটু ভুলই সমূহ বিপদ ডেকে আনতে যথেষ্ট।
সকল সংকট থেকে উত্তরণের একটি দুয়ারই খোলা। পারস্পরিক সংযোগ, সমঝোতা,আলোচনা, নৈকট্য বৃদ্ধি। তাই নিজেদের ( সরকার, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক দলসমূহের) মধ্যে যদি কোন ভুল বুঝাবুঝি ও দুরত্ব থাকে জাতীয় স্বার্থে দ্রুত নিরসন করুন।
দূর থেকে গত তিনমাসে দেশের চলমান যে পরিস্থিতি অবলোকন করেছি , যা বুঝতে পেরেছি তাই লিখলাম।
দুই
অভিনন্দন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল
সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরপর দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ান হলো বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। টুপি খোলা অভিনন্দন।
বল পায়ে দুর্দান্ত সব আক্রমন শানিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষনে ত্রাস ছড়িয়েছেন মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, এক কথায় দু‘জন অসাধারণ খেলেছেন।
আক্রমন প্রতি আক্রমনের মাঝে বাংলাদেশের মেয়েরা দলীয় সমঝোতায় দারুন খেলেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে ভাল খেলেছেন তহুরা খাতুন, মাসুরা পারভীন,রুপনা চাকমা, শামসুন নাহার জুনিয়র, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, মারিয়া মান্দা, আফঈদা খন্দকার, সাবিনা খাতুন । রির্জাভ বেঞ্চ হতে যখনই মাঠে নেমেছেন শাহিদা রিপা, স্বপ্না রানী, সানজিদা, কৃষ্ণা,সাগরিকারা তাদের নৈপুণ্যের ঝলক দেখিয়েছেন।
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ঋতুপর্ণা চাকমা।
সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন রূপনা চাকমা।
আবারও অভিনন্দন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল।
তিন
এরকম আনন্দ ওদেরই মানায়। ম্যাচ জিতে, শিরোপা জিতে ওরাই আমাদের বারবার আনন্দে উদ্বেলিত করে। ওদের জন্য শুধু ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা নয়। মহিলা ফুটবল লীগ নিয়মিত চালু থাকলে মেয়েদের রুটি রুজির চিন্তা লাঘব যেমন হবে, তেমনি অনেকটাই নির্ভার হয়ে খেলায় আরো বেশী মনযোগ দিতে পারবে। তখন ওরা আমাদের আরো অনেক সাফল্য এনে দিবে। এজন্য ক্রীড়া মন্ত্রনালয় ও বাফুফেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মেয়েদের বেতনভাতা নিয়মিত করতে হবে।
স্যালুট এগেইন চ্যাম্পিয়ন টাইগ্রেস।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা

