স্যার

স্যার

বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভ হয় একাত্তরে। সেই হিসেবে বাঙালির স্বাধীন চেতনার বিকাশ শুরু হয় বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আর কী আশ্চর্যকথা যে, দুটি পর্বেই আনিসুজ্জামান অনন্য ভূমিকায় ভাস্বর। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের রূপরেখার খসড়া ও ইস্তাহার প্রণয়নেও তাঁরই অগ্রগণ্য ভূমিকা। এমনকি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তিনি সংগঠনটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের রাষ্ট্রীয় বক্তব্য সংশোধন বা সহায়তায়ও তিনি। পরিকল্পনা কমিশনে যুক্ত। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলা অনুবাদেও তিনি। বঙ্গবন্ধু তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা পদে আহবান করেছিলেন। বিনয়ের সাথে তিনি তা থেকে মুক্তি চেয়েছেন শুধুমাত্র প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানোর জন্যই নয় বরং স্রেফ শিক্ষকতাই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত।

- Advertisement -

বাক সংযমে তিনি সাফল্যের চূড়া স্পর্শ করেছেন ঠিক; কিন্তু জাতির প্রয়োজন উচ্চারণে তিনিই ছিলেন সর্বাগ্রগণ্য ভূমিকায়।

একটি অনুপম ও মহিমাময় জীবনকে তিনি যাপন করেছেন। যেমন, জাতির বিবেকমান সত্যনিষ্ঠ অসাম্প্রদায়িক চেতনা উন্মেষে; তেমনি, ভাষার পরিচর্যা করে পরিশুদ্ধতার ফসলকে সনাক্তকরণে।

সূর্যের আলোকপ্রাপ্তসমান বাঙালিদের দীপ্তিতে নিজে আলোকিত হয়ে সে আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন আমাদের প্রতি। অন্ধকার থেকে সহসা বের হওয়া আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার আশংকায় সে আলো ছড়িয়েছেন আশ্চর্যসুন্দর মিতবাকে।

তাঁর উপস্থিতিই এক প্রাজ্ঞময় শোভা। তাঁর জীবন এক পণ্ডিতের রূপ। তাঁর কথা প্রজ্ঞার বাক প্রতিমা। সমকালীন বাঙালির উদাহরণীয় এক জীবন শিল্পীর নাম আনিসুজ্জামান। তাঁর স্মৃতির প্রতি আমার অপরিমেয় শ্রদ্ধা।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent