সত্যজিতের ‘এলিয়েন’ই স্পিলবার্গের ইটি!

সত্যজিতের এলিয়েনই স্পিলবার্গের ইটি

‘বঙ্কু বাবুর বন্ধু’ যেটা সত্যজিতের লেখা

সেই গল্পেই পেয়েছিলাম ‘ইটি’র প্রথম দেখা।

- Advertisement -

অন্য গ্রহের অবাক প্রাণি রাতের অন্ধকারে

নেমে এসেছিলো সেদিন গ্রামের পুকুর পাড়ে।

অর্থাৎ কিনা ইটির জন্ম সত্যাজিতের হাতে

বঙ্কু বাবুর সঙ্গে দেখা সেই নিশুতি রাতে।

পঞ্চা ঘোষের বাঁশ বাগানের মাঝখানে যে ডোবা

হঠাৎ সেথায় ভিন্ন গ্রহের অন্য আলোর শোভা…

নিউইয়র্ক-কোলকাতা নয় কাঁকুড়গাছি গ্রামে

ফ্লাইং সসার থেকে একটা আজব প্রাণি নামে…

চতুর্দিকে ছড়িয়ে পরা গোলাপী রঙ আভা

সত্যজিতের গল্পে সেটার ইলাস্ট্রেশন পাবা।

সসার থেকে নেমে আসা  আজব প্রাণি য়্যাং

চুলহীন-গোল-ন্যাড়া মাথা লিকলিকে তার ঠ্যাং।

কান ও নাকের মধ্যে তাহার দুইটা করে ফুটো

চার ফিট উচ্চতার প্রাণি, হাত পা দুটো দুটো…

ঝাঁ চকচক গোলাপী রঙ আজব পোশাক পরা

য়্যাং এসেছে বুঝতে মানুষ দেখতে বসুন্ধরা।

চোখ দুটি তার হলদে আলোর তীব্র ঝিলিক মাখা

গল্পে ছাপা এই ছবিটা সত্যজিতের আঁকা।

মানুষগুলোর বুদ্ধিমত্তা কম নাকি খুব বেশি?

সেইটা জানতে পৃথিবীতে এসেছে ভিনদেশী।

এই পৃথিবীর সকল তথ্য জানার প্রয়োজনে

য়্যাং এসেছে নতুন গ্রহে কৌতূহলী মনে।

য়্যাং-এর ব্রেণে বিপুল বুদ্ধি এবং নলেজ ঠাঁসা!

আজব প্রাণি য়্যাং-এর জানা চৌদ্দ হাজার ভাষা!

আটশত তেত্‌তিরিশ নাকি য়্যাং-এর বয়েস। ভাবো–

এমন প্রাণি এই দুনিয়ার কোথায় খুঁজে পাবো!

নিবাস তাঁহার অনেক দূরের সেই ক্রেনিয়াস গ্রহ…

প্লুটো সহ সকল গ্রহে তার সে কি আগ্রহ!

য়্যাং অর্থাৎ এলিয়েনটা দেখতে ‘ইটি’র মতো

মানুষ নিয়েই গবেষণা করছে আপাততঃ

এলিয়েনরা খুব সাহসী নয়কো ভীতু মোটে

য়্যাং-এর কথায় আচরণে গর্ব ফুটে ওঠে–

য়্যাং-এর দাবী  সোজাসাপ্টা, নয় সে জড়োসড়ো–

‘মানুষ থেকে শ্রেষ্ঠ ওরা এবং উচ্চতরো’…

পৃথিবীতে সে এসেছে ‘মানুষ’ দেখবে বলে

পরিদর্শন শেষে যাবে ক্রেনিয়াসেই চলে…

দুই ।। সত্যজিতের য়্যাং সাহেবই স্পিলবার্গের ইটি!

সত্যজিতের পাঠক যারা তারা সবাই জানি

ইটি হচ্ছে সত্যজিতের কাল্পনিক এক প্রাণি।

বঙ্কু বাবুর গল্পে পড়া ভিন্ন গ্রহের বালক

তাকে নিয়েই আমেরিকান চিত্রপরিচালক–

বানিয়েছেন দারুণ মুভি! নাম দিয়েছেন ‘ইটি’

কিশোর তরুণ মুগ্ধ সবাই–ইটি দারুণ প্রিটি!

ইটি রিলিজ হবার পরেই বাঁধলো খিটিমিটি,

কারণ–

সত্যজিতের য়্যাং সাহেবই স্পিলবার্গের ইটি!

তিন ।। ক্রেনিয়াস গ্রহের ‘য়্যাং’ এবং ‘এলিয়েন’ থেকে ‘ইটি’

বঙ্কু বাবুর গল্প লেখার আনেক দিনের পরে

সত্যজিতের ইচ্ছে হলো–একটা মুভি করে…।

‘এলিয়েন’ খুব প্রিয় ছিলো সত্যজিতের। খুবই।

তাই ভাবলেন তাঁকে নিয়েই বানাবেন এক মুভি।

লিখে ফেললেন ‘চিত্রনাট্য-গল্প’ ইংরেজিতে

জমা দিলেন আমেরিকান মুভি কোম্পানিতে।

হলিউডের কলাম্বিয়া বিখ্যাত কোম্পানি,

মুভির কি নাম? নাম ‘এলিয়েন’ সবাই সেটা জানি।

মধ্যিখানে মিডল ম্যানের দায়িত্বে যে লোক

চাইছিলো একটা কিছু খটর-মটর হোক।

মিডলম্যানের আচরণে ক্ষুব্ধ সত্যজিতে

সব যোগাযোগ থামিয়ে দিলেন সেই সে কোম্পানিতে।

সত্যজিতের চিত্রনাট্যের কপি সাথে সাথে

এদিক সেদিক ছড়িয়ে গেলো এর হাতে-ওর হাতে!

স্পিলবার্গের ‘ইটি’ এলো, পৃথিবী আপ্লুত।

দর্শকেরা লুফে নিলো ‘ইটি’কে খুব দ্রুত।

লস এঞ্জেলেস শহরে এক তরুণ ভারতীয়–

পত্রিকাতে লিখলো নিউজ জেনে রাখুন প্রিয়–

‘স্পিলবার্গ হ্যাজ স্টোলেন ইটি’ সত্যজিতের থেকে

সত্যজিতের কৃতিত্ব সব উহ্য-গোপন রেখে……

ইটি রিলিজ হবার পরেই বাঁধলো খিটিমিটি,

কারণ–

সত্যজিতের ‘এলিয়েন’ই স্পিলবার্গের ইটি!

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent