
দেশের এই অরাজক পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের পথ কি?
সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে আছে। কিন্তু তাদের খুব একটা active মনে হচ্ছে না। মাঝে মাঝে খুব সীমিত আকারে তারা একশনে যাচ্ছে।এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা বার্তা পাচ্ছে, সেনাবাহিনী কিছু করবে না। আমরা বিশৃঙ্খলা করতে পারি।
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা মানে অনেক ক্ষমতা। সেনাবাহিনী যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে, অন-স্পট গুলি করার নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু এই সব ক্ষমতা তারা প্রয়োগ খুব একটা করছে না। তাহলে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা হাতে নিয়ে লাভ কি? দেশের সম্পদ, জান-মাল রক্ষা করা, অভ্যন্তরীণ গোলোযোগ ঠেকানো ইত্যাদি যদি সেনাবাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তবে তারা কি সেই দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করছে?
আমার তো মনে হয় না করছে।
সেনাবাহিনী সেই জুলাই-আগষ্ট থেকে ফিল্ডে আছে কিন্তু তাদেরকে খুব একটা কার্যকর ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না।
এমনকি জুলাই-আগষ্টে বেশ কিছু থানা আক্রমণ হয়েছিল। সেই সময় অনেক পুলিশ অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল কিন্তু সেনাবাহিনী ফিল্ডে থাকা স্বত্তেও নিরব ভূমিকা পালন করেছিল। পুলিশও তো সাধারণ নাগরিক। তাই না? তাদের প্রান রক্ষা করা কি সেনাবাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিন মাসের বেশি হলো দায়িত্ব নিয়েছেন। আরও সময় চাই বলে তারা কার্যকর কিছু না করে সময় পার করে দিচ্ছেন। দেশ ঠিক হচ্ছে না বরং নিত্যনতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
দেশ এইভাবে চলতে পারে না।
নাগরিকদের মনে এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য কি পথ থাকতে পারে বলে মনে হয়?
অনেকে বলছেন জরুরী অবস্থা জারি করে দেশকে একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা। কথা হচ্ছে, সেনাবাহিনী তো ফিল্ডেই আছে। জরুরী অবস্থা ঘোষণা করলেও এই একই সেনাবাহিনীই ফিল্ডে থাকবে। লাভ কি তাতে? তারা এখন যেহেতু কার্যকর না, জরুরী অবস্থা ঘোষণা করলে কি তারা গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে? আমার তো মনে হয় না।
তাদেরকে সেইভাবে active হতে কমান্ড দেওয়া হচ্ছে না। কোন রকম for show ফিল্ডে রাখা হয়েছে।
আরেকটি সমাধান হচ্ছে, সরাসরি সামরিক শাসন জারি করা। তাতে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নিবেন। সেনাবাহিনী মার্শাল ল’ দিয়ে দেশ চালাবেন।
এটি একটি সমাধান হতে পারে কিন্তু জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি সেনা শাসন সমর্থন করবে না। জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে বাংলাদেশী সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিতে চাইবে না। কিন্তু বিশ্ব মোড়লরা চাইলে অনেক কিছুই হতে পারে। তারা যদি গ্রীন সিগন্যাল দেয় এবং শর্ত দিয়ে দেয়, তোমরা দেশের সব কিছু নিয়ন্ত্রণে এনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যাও।
এটি সম্ভব। তখন একটি যুক্তি থাকবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ চালাতে পারছে না। সুতরাং, আমাদেরকে আসতে হলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দিয়ে ব্যর্থতা স্বীকার করে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে বিদায় নিবেন।
আরেকটি সমাধান হতে পারে জরুরী অবস্থা জারি করে ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন ধরনের সেনা সমর্থিত একটি সরকার গঠন করা। তবে এই সরকার হতে পারে সর্বদলীয় জাতীয় সরকার। সব দল থেকে প্রতিনিধি নিয়ে সরকারের ক্যাবিনেট গঠিত হতে পারে। সব দল থাকলে সুবিধা হবে এই যে, দলগুলির পেছনে থাকা বিপুল জনসমর্থনকে তারা নিয়ন্ত্রণ এবং কাজে লাগাতে পারবে। এতে জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে।এটি করলে দেশ একটি শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসবে।
দেশের এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য জনমনে কিছু চিন্তা-ভাবনা আছে।
মূলত সেইগুলো তুলে ধরা হলো।
স্কারবোরো, কানাডা
