
গত সাপ্তাহে আমার চার কলিগ ক্রিস, শন, মিগুয়েল ও জ্যাকব মেক্সিকো ঘুরতে গিয়েছিল। যাবার আগে ক্রিস জিগেস করেছিল, বলো,তোমার জন্য কি আনব?
ক্রিসের আন্তরিকতা আমার মন ছুঁয়ে যায়।
গত আড়াই বছর এক সাথে কাজ করলেও খুব একটা কথা হয় না। দু’জনের কাজের ক্ষেত্র আলাদা। সে বড় পোস্টে কাজ করে। কিছুদিন আগে প্রোমোশন পেয়ে ম্যানেজার হয়েছে। তাঁর ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুন। এখন কালেভদ্রে তাঁর দেখা পাই।
আমি বিনয়ের সাথে ধন্যবাদ জানিয়ে বলি, কিছু লাগবে না। তোমাদের ট্যুর আনন্দময় হোক, শুভকামনা।
ক্রিসের পাশেই দাঁড়িয়েছিল শন। আমার কথা শেষ হবার সাথে সাথেই শন ক্রিসকে বললো, মেক্সিকান টাকিলা এনে দিলেও রনি খুশি হবে না। ওর জন্য কিছু মেক্সিকান পেসো এনে দিব, দেখো কেমন খুশি হয়।
ক্রিস বিস্ময় নিয়ে বললো, তাই নাকি। ইন্টারেস্টিং।
ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান শন জানতো আমার কয়েন ও কারেন্সি জমানোর শখের কথা। ও যে সেটা মনে রেখেছে, আমি নিজেই অবাক।
২. সকাল থেকেই আমার মন খারাপ। সারাদিন কাজে অন্যমনস্ক ছিলাম। বিকেলে যখন কাজ হতে বের হচ্ছি তখন পিছন থেকে শনের ডাক।
ফিরে তাকাতেই দেখি হাসিমুখে শন দাঁড়িয়ে আছে। পাশে জ্যাকব।
মেক্সিকো ঘুরে এসে শন ও জ্যাকব আজই কাজে যোগ দিয়েছে। সকাল হতে ওদের কারো সাথে আমার দেখা হয়নি। শুনলাম ক্রিস ও মিগুয়েল গিয়েছে কলোম্বিয়া। আগামী সাপ্তাহে ফিরবে।
তোমার জন্য ক্রিসের দেয়া স্যুভেনির এনেছি। কাল পাবে। আমি কয়েন ছাড়া অন্যকিছু আনিনি।
শনের কয়েন ও জ্যাকবের টাকিলা হাতে পেয়ে ভীষন ভাল লাগল ।
৩. অভিবাসী জীবনে পরিচিত বিভিন্ন দেশের কলিগ, বন্ধুদের কাছে চেয়ে কয়েন ও নোট সংগ্রহ করেছি। এবারই প্রথম কেউ মনে করে নিজ থেকে আমার জন্য দু’চারটি কয়েন নিয়ে এসেছে।
মন খারাপের দিনের শেষে কলিগদের গিফট পেয়ে আপ্লুত হয়েছি।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
