
বাংলাদেশ ভাগ হয়ে গেছে; সেটাও বহুদিন আগের কথা, মানচিত্রে তাদের দেখা যায় পাশাপাশি, কেউ কেউ আদর করে এপার বাংলা ওপার বাংলা বলে ডাকে, যেন কোন নদীর দুই পারে দুই বাংলা, আসলে বাংলাদেশকে ভাগ করেছিল ব্রিটিশ-কলোনাইজেশন, আমাদের কারো কারো তাতে সায় ছিল বৈকি। তারপর কতটা আলাদা হয়ে যেতে দিয়েছি নিজেদের, আর ফিরে ফিরে চেয়েছি পুরোনো স্মৃতির পাতায়, তার হিসেব কেউ রাখে কেউ রাখে না। কিছু কি খুঁজে পাওয়া যায়! এসব ছাপিয়ে আরও এক নতুন বাস্তবতা হাজির হয়েছে বিশ্বের দেশে দেশে; যাকে বলা যায় ছোট্ট বাংলাদেশ। আমাদের মনের গহীনে ফেলে আসা স্মৃতির সাথে ফেলে আসা দেশ, সেই দেশ মাঝেমধ্যে বাস্তব হয়ে ওঠে নানা আয়োজনে, পহেলা বৈশাখ কি শীতের পিঠার কোলাহলে ভুলে যাই হাজার হাজার মাইল দূরে আমাদের সীমান্তরেখার কথা, বাঙলা ভাষার আত্মার গভীর থেকে ডাক আসে, আর সেই ডাক যদি হয় সঙ্গীতের, তো সাধ্য কার আমাদের মিলনের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়!
শ্রীকান্ত! চমকে ওঠবেন না। গত সন্ধ্যায় হারানো সেই বাংলাকে তিনি সত্যসত্যই হাজির করলেন ক্যালগারি শহরে। বাংলা গানের কি আর এপার-ওপার হয়? নাকি তাকে আটকে রাখা যায় সীমান্ত প্রাচীর তুলে? এই গানের যে স্রষ্টা, এই সুরের যে স্রষ্টা, জন্মের সময় তাঁরা বোধকরি ঈশ্বরের কাছ থেকে বাড়তি কিছু পক্ষপাত পেয়ে থাকবে, সেজন্য তাঁরা মরে গিয়েও কী প্রবলভাবে বেঁচে আছে। তো তাঁদেরই উদ্দেশে তাঁদেরই একজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘তুমি কি কেবলই ছবি’ গানটি গেয়ে শ্রীকান্ত আমাদের বুঝিয়ে দেন, আসলে তাঁরা কেউ ছবি নন, তাঁরা ওই আসরে আমাদের আর সকলের মতোই উপস্থিত। আমরা তখন আরো ঘন হয়ে বসি, আমাদের সময় একসময় শেষ হয়ে যায়। এরই মাঝে হারিয়ে যায় ঘন্টা তিনেক সময়! আসলে হারায় না, আমাদের স্মৃতির দখল নেয় এবং আমি নিশ্চিত, আমরা বারবার এই স্মৃতির কাছে ফিরে যেতে চাইবো, তখন শুধু গান না, মাঝেমধ্যে ক্যালগারির প্রচন্ড ঠান্ডা নিয়ে শ্রীকান্ত যে ঠাট্টা করলেন, সারাজীবনের যত জল পান করেছেন, তারচেয়ে বেশি গিলেছেন গত তিনদিনে, সেই কথাগুলো মনে করে আমরা হাঁসবো; অথবা, চোখের কোনা মুছতে মুছতে ভাববো—আর কি দেখা হবে?
ক্যালগেরি, কানাডা
