
সম যে আচার তাকেই হয়তো বলে সমাচার।
ছোট বড় হাজারো সমাচারে ভরপুর এই করোনাকাল। দেশের টেলিভিশন খুললেই দেখি বহু ঘটনা এবং রটনা বহুল স্বাস্থ্য সমাচার। আবার মাঝে মাঝেই দেখি ক্ষমতাশালীদের দুর্বৃত্তায়নের সমাচার। পাপিয়া – ডাঃ সাব্রিনা এবং সবশেষ বহুল আলোচিত প্রতারক শাহেদ। যার্বের হাতের মুঠোয় থাকা এই শাহেদকে কাঁদায় গড়াগড়ি খাইয়ে বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেফতারের দৃশ্য দেখলে নাটকের থ্রিল মনে হয়।
ফেসবুক খুললে দেখি আরেক ভিন্ন সমাচার।
কেউ হয়তো মাছ শিকারে ব্যস্ত তাই দেখি মৎস সমাচার।
উইন্ডসরের বন্ধুবর ছোট ভাই রনি সেদিন ফোন দিয়েছে অন্য রকম এক সমাচার নিয়ে। স্পিড বোটে মাছ শিকার। লেকের মাঝখানে মৎসচারন স্পটে গিয়ে বোট নোঙ্গর এবং মাছ ধরা। শখ বলে কথা – বোট কিনে ফেলেছে মাছ ধরতে। তাও আবার একটি নয় দুটো। রনি মাছ ধরায় যেমন পটিয়সী, তেমনি বাগান করাতেও অবাক করা। ধন্যবাদ রনি বাগান দেখা এবং মাছ ধরার বিশেষ আমন্ত্রনের জন্য।
আমার খুব ছোটবেলার বন্ধু এবং সহপাঠি সামছুজ জোহা। আমরা ছিলাম কুমিল্লার ডিগ্রী কলেজ রোডে পাশাপাশি বাসায়। ফুলবাগান করতাম একই সাথে। আরো করতাম খাকি ক্যাম্বল হাঁস এবং বিদেশী উন্নত জাতের মুরগীর পালন – ফ্রি রান সিস্টেমে। তবে প্রতিযোগীতা ছিল বাগান করায়, কার বাগান ভালো হয় তা দেখার। অবাক ব্যপার এখনো বাগান করছি দুজনেই। তবে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে। জোহা যুক্তরাজ্যের লেইসেচটারে, আর আমি উইন্ডসরে। ওর বাহারি ফসলের বাগান দেখে আমি অবাক তাকিয়ে থকি – কি অপরূপ!!
আমার অন্য বন্ধু মিজান পোস্ট দিয়েছে সেদিন লাউ সমাচার নিয়ে।
কিভাবে চোখের সামনে বেড়ে উঠেছে লাউ গাছ তরতর করে। অতঃপর একদিন সেই লাউ প্লেটে – ভোজন বিলাস পর্বে। অবশ্য এটি তার ধারাবাহিক সমাচারের নতুন পর্যায় – এর আগে বেগুন সমাচার। আমি পরে বেশ মজা পাই। শুধু কমেন্ট করি খুব ছোট। কেন জানি ইদানিং কমেন্ট করে ইচ্ছা করে না। শুধু সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ – তাও যেদিন ফেসবুক খুলি এবং যার পোস্ট চোখে পড়ে।
করোনাকাল – ইউটিউব সমাচার।
বন্ধু টিপু সেদিন ফোন দিয়েছে সেন্ট লরেন্সের শহর মন্ট্রিয়াল থেকে। বললো করোনা কালে পুরোপুরি ঘরবন্ধি। শিলুর সাথেও দেখা করার অনুমতি নেই। তাই সময় কাটে লেখালেখি করে। বিভিন্ন বই আর ইঊটিউব ছবি এবং নাটক দেখে। কিছু কিছু ভাল ছবি এবং নাটকের লিঙ্ক পাঠিয়ে দিল সাথে সাথেই। ধন্যবাদ বন্ধু।
আমার নিজের কোন দিন-সমাচার নেই।
তাই হয়তো অন্যের সমাচার দেখতে কিংবা শুনতে আগ্রহ পাই না। আমার নিজের জন্মদিন আমি ফেসবুক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। সারাক্ষন শুভ জন্মদিন শুনতে এবং দেখতে ভাল লাগে না। তাও মাঝে মাঝে বন্ধুদের দেই – খুশি করার জন্য। আমার মতো বেরসিক তো আর সাবাই না। একটু কেক কাটবে – আনন্দ করবে এটাই তো স্বাভাবিক। সমালোচকরা বলেন – বুড়ো বয়সে আবার জন্মদিন কিসের। আবার শুভ আলোচকেরা বলেন জন্মদিন তো জন্মদিনই। এর আমার কঁচি বুড়ো আছে নাকি? আমিও তাই বলি। তবে নিজেরটা লুকিয়ে রেখেছি – দেনা শোধের ভয়ে। কারন হাজার জনের কাছে শুভেচ্ছা পেলে ফেরত দেব কিভাবে? বছরের তিনশ পয়শট্টি দিন হয়তো শুধু জন্মদিনের বোঝা শোধ দিতে ব্যস্ত থাকতে হবে!
নাতি-পোতা সমাচার।
কেউ কেউ এখানে নাতিকে দেখি বলে পোতা। সে যাই হোক। আমার স্ত্রীর এক ছোটবেলার বান্ধবি আছে। নাম তার চৈতন্যবালা চৈতি। স্বামী মৃত্যুর পর তার সময় কাটে নাতিকে নিয়েই। চৈতির নাতি-প্রীতি অসাধারন। ফেসবুকে নাতির ছবি দিলে কেউ কেউ হয়তো দেখে না। কিংবা দেখেও না দেখার ভান করে – কমেন্ট করে না। তাই চৈতির নতুন টেকনিক। ফেসবুক মেসেঞ্জারে এবং ফেসবুক স্টোরির ব্যবহার। নাতি কখন হাসি দিয়েছে, কখন হিসি দিয়েছে – কখন পা করেছে, কখন পু করেছে – অতি সুনিপুনভাবে চিত্রায়িত হয় সবই। ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবং ফেসবুক স্টোরিতে। হয়তো তখন এখানে মধ্যরাত কিন্তু বাংলাদেশে ভর-দূপুর। বিছানার পাশে চার্জে থাকা টেলিফোনে টুং টুং শব্ধ হতেই কান খাড়া। ফোন হাতে নিয়ে দেখা গেল তেরটি ছবি – সবাই নাতি-প্রলাপ। আহা! কি মায়া এই জগতে!!
বাগান সমাচার।
উইন্ডসরে এই সমাচার চলছে এবং চলবে হয়তো অনাদিকাল। ।
গ্রীষ্মকাল আসলেই শুরু হয় বাগান সমাচার। হাজারো ছবিতে ফেসবুক সয়লাব। কার গাছ কতটুকু হয়েছে, কার গাছে শুধু ফুল নয় বরং গিটে গিটে কইয়া শশার আগমন হয়েছে সবাই ইথারে ভেসে আসে ফেসবুকের বদৌলতে। আমার দেখার সময় না হলেও খবর পেয়ে যাই বাহকের মাধ্যমে। আমি গাছের ছবি দেই না। শুধু ছবি সঞ্চয় করি – নিজের আনন্দ নিজের কাছেই রেখে দেই। বউ যখন বলে উমুক বলেছে ‘ভাবি আমার বাগান দেখতে আসেন এক বিকেলে – দেখলে টাস্কি খেয়ে যাবেন’ – আমি শুধু শুনি। ভাল লাগে ভালো খবর শুনতে।
উইন্ডসরের ছোটভাই জালাল ইদানিং ছবি দেয় প্রায়শই – ভিন্নতর এক চাষাবাদ পদ্ধতির। প্রচুর লাইক কমেন্টের ছড়াছড়ি – কেউ বলে প্রফেশনাল চাষী, কেউ বলে নবীন কৃষি উদ্ভাবক। স্বল্প খরচের ডলার দোকানের বাজারের ব্যাগে লাউয়ের চাষ। আমার কাছ দু-মাস থেকে বীজ নিয়ে এখন তার লাউ ভরা মাঁচা। লাউ তুলেছে একদিনে সাতটি। সবই অবাক করা। অন্য এক ছোট ভাই আলমগীর বাগান করেছে শশা- বেগুন – লাল শাঁক এবং পুঁই শাকের। রি-সাইকেল বিনে কিংবা মাটিতে। দেখলেই মন ভরে যায় – সবই মনে হচ্ছে খুবই দ্রুত বর্ধনশীল জাতের গাছ। ফলনও ভাল।
তাছাড়া বাগান করেছেন আমাদের প্রিয় রহমান ভাই – শাহিদা ভাবী, মোস্তাফিজ ভাই – ডালিয়া ভাবী সহ উইন্ডসরে অনেকেই – সবই সবুজে সবুজ। দেখলেই মন ভরে যায়। টরেন্টোতে বাগান করেছে ছোট ভাই আরিফুর রহমান হিরু এবং দুলাল ভাই। সবার বাগানের ছবি দেখলে নিজের কাছে নিজেকে শুধুই শিক্ষানবিস মনে হয়। তবে সবার কাছ থেকে পরামর্শ পাই সময়ে অসময়ে। শুভেচ্ছা সবাইকে।
আমার বাগানের কিছু সমাচর আছে। সবার সাথে শেয়ার করছি আজকের এই ধুমকাটানা বৃষ্টির দিনে । বৃষ্টি নাকি মানুষকে গল্প করতে অনুপ্রানিত করে। হয়তো আষাড়ে গল্প – তবে গল্প তো গল্পই।
আমি গল্প বলছি ছবি এবং ভিডিওতে – লিঙ্ক দেখুন –
আপনারাও আপনাদের না-বলা বাগান সমাচার আমার এই পোস্টের কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।
শুধুই বৃষ্টি বিলাস শুভেচ্ছা।
উইন্ডসর, কানাডা



