গণতন্ত্রের বিকাশ নাকি দীর্ঘমেয়াদী ব্যর্থতা?

গণতন্ত্রের বিকাশ নাকি দীর্ঘমেয়াদী ব্যর্থতা

৫ আগস্ট অনেকের কাছে এখন আরব বসন্ত বা কালার রেভলিউশনের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হতেই পারে। একদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্যদিকে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাহীন একটি নতুন গোষ্ঠীর ক্ষমতায় আসীন হওয়া—এই ঘটনাপ্রবাহ অতীত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

পাঁচ মাস পরের বাংলাদেশ কেমন দেখাচ্ছে?

- Advertisement -

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ কার্যত রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে অনুপস্থিত। শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসিত, আর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির। অপরদেক নতুন বন্দোবস্তের বাসনা থেকে ছাত্র ও সুশীল সমাজের নেতৃত্বে ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকার পরিচালনা করছেন। ড. ইউনুস শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।  রাজনৈতিক সংস্কারে যুক্ত ব্যক্তিরাও মূলধারার রাজনীতিতে অপরিচিত। জনআকাঙ্খার বিপরীতে নৈরাজ্য বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার উপক্রম।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক বিপ্লব নিয়ে লিখেছিলাম, সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারলে ভালো হতো। দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৮৭ সালের গণতান্ত্রিক বিপ্লবে ক্ষমতাসীন দলকে গদিতে রেখেই সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল। সরকারের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা থাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। ওই আন্দোলনে উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান মজবুত করা এবং জনগণের আস্থা অর্জন।

বাংলাদেশ কার্যত তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, দীর্ঘমেয়াদী ব্যর্থতার শঙ্কা এখন প্রকট হয়ে ওঠছে। মেটিকুলাসলি ডিজাইনে শেখ হাসিনার পতনই ছিল একমাত্র লক্ষ, পরবর্তীতে সরকার পরিচালনাসংক্রান্ত কোন চিন্তা-ভাবনা আন্দোলনের কুশীলবদের কারো মাথায় ছিল না। ক্ষমতার হঠাৎ পরিবর্তন দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার বদলে আরও বিভ্রান্তি এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।  “রাজনৈতিক সংস্কার” বলতে যা বোঝানো হচ্ছে, তা মূলত অভিজ্ঞতা এবং কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে ক্ষমতার এই নতুন কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ কি দক্ষিণ কোরিয়ার মতো গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথ বেছে নিতে পারতো? নাকি আরব বসন্তের মতো একটি অদূরদর্শী পরিবর্তনের ফাঁদে পা দিয়েছে?

আপনার মতামত কী?

মন্তব্যে জানান । গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গঠনে সবার ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালগেরি, আলবার্টা

- Advertisement -

Read More

Recent