একাকীত্বের সৌন্দর্য

একাকীত্বের সৌন্দর্য

কদিন আগে স্যোসাল মিডিয়ার উপর একটি গবেষণা কর্মের ফলাফল পড়ছিলাম। সেখানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে বয়স্কদের জন্য প্রিয় মানুষদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্র, একাকিত্ব দূর করার উপায় এবং বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে চিন্হিত করা হয়েছে। আমার ধারনা এই গবেষণায় যারা অর্থায়ন করেছে তারা স্যোসাল মিডিয়া সংশ্লিষ্ট। আমার আরো ধারণা, সামাজিক মাধ্যমের কর্তা ব্যক্তিরা নিকট ভবিষ্যতে  এইসব মাধ্যমের উপযোগিতা হারানোর শংকায় পড়েছে। আর সেকারণেই বিষয়গুলো এখন সামনে আসছে, এসব নিয়ে নতুন নতুন  গবেষণাও হচ্ছে। কালের বিবর্তনে যেমন বিরাটাকায় ডাইনোসর হারিয়ে গেছে, আবার শুনেছি ক্ষুদ্র তেলাপোকাও নাকি বহুকাল ধরে টিকে আছে। হয়তো সেভাবেই অনেক মিডিয়া জায়ান্টরা সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যাবে আবার অনেক ক্ষুদ্ররাও সম্ভবত আরো বহুকাল ধরে টিকে থাকবে। তবে একথাও তো সত্যি যে, পৃথিবীতে কোন কিছুই স্হায়ী নয়। সৃষ্টি যেহেতু হয়েছে, ধংসের চক্রের কাছে বিলীন তাকে হতেই হবে। সে আজ হোক অথবা কাল। টেকনোলজির স্হায়ীত্বকাল বা বিবর্তনের সময়কাল তুলনামূলক বিবেচনায় আরো কম। আমরা আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনে ফাউন্টেন পেন থেকে সিডি প্লেয়ারের মত প্রিয় জিনিসগুলোর অবলুপ্তির সাক্ষী হলাম। ফেসবুকের ইদানিংকার ট্রেন্ড অন্তত আমার এই ধারনাকেই বদ্ধমূল করে দিচ্ছে।

একটা বিষয় শংকার সাথে লক্ষ্য করছি, ইদানিং কাছে দূরের কিছু মানুষ একাকিত্ব নিয়ে বেশ উদ্বেগের মধ্যে আছে।জীবনের এই পর্যায়ে এসে এই বোধটা জাগতে পারে এবং ধারনা করি সময়ের সাথে সেটা আরো গভীরও হতে পারে। আমরা কিছু মানুষ আমাদের জীবনের সব থেকে মূল্যবান প্রিয় সন্তানদের ইতিমধ্যেই প্রায় হারিয়ে বসেছি। আগামী ১০/২০ বছরের মধ্যে আমরা অনেকেই হয়তো প্রকৃতির নিয়মে সংগীহীন একাকিত্বে পড়ে যাব। জীবনের স্বাভাবিক এই বাস্তবতা আমাদেরকে ফেইস করতেই হবে। এখানে যে বিষয়টা বোঝা দরকার তা হলো, ইচ্ছা থাকলেও সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা মানুষের থাকে না। এই যেমন আমি কিছুতেই চাই না যে নিজে বুড়িয়ে যাই। কিন্তু হচ্ছে তো! তাহলে আমার করণীয় কি? আমার মন বলে, এই সব নিয়ে হতাশায় পড়ে যাওয়ার কোন মানে হয় না। বরং কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করা এবং সাথে কিছুটা মানিয়ে নেয়া সমীচীন হবে। বেস্ট হলো এই দুটোর কম্বিনেশন। ছয় দশক ছুঁই ছুঁই জীবনে এসে একাকিত্বের ভাবনাকে পেয়ে বসতে দেয়া ঠিক হবে না। এই রোগের উপশমে ভাল কিছু বন্ধুর থেকে বড় কোন ওষধি আছে বলে আমার মনে হয় না। পুরনো বন্ধুর সাথে যোগাযোগটা বাড়িয়ে দিতে পারেন। নতুন বন্ধু যোগাড় করা সম্ভব না হলেও পুরনো বন্ধু হারানোর মতো বিলাসিতায় কিছুতেই যাবেন না। আত্মীয় স্বজন যাদের সাথে আগের তুলনায় যোগাযোগ আলগা হয়ে গেছে, সম্পর্কগুলো ঝাড়ামোছা করুন। নতুন করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করুন। নিজের পরিবারের গন্ডির মধ্যে যারা তাদের সাথে টেকনোলজির মাধ্যমে যোগাযোগ না করে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আপনজনদের সাথে সামনাসামনি দেখা করুন, স্পর্শ করুন, জড়িয়ে ধরুন।

- Advertisement -

জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে কত ভালবাসাই না জমা হয়ে থাকে! সেই স্মৃতি রোমন্থন ক‘রেই তো একটা জীবন পার ক‘রে দেয়া যায়! একাকীত্বের অপূর্ব মূর্ছনা আছে, অসম্ভব সৌন্দর্যও  আছে। কিছু না হলে সেটা উপভোগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

জীবন ফুরিয়ে যাওয়ার আগে কিছুতেই নিজেকে হারিয়ে যেতে দেবেন না।

 

হ্যামিল্টন, অন্টারিও

- Advertisement -

Read More

Recent