নিষিদ্ধ লোবান : ভবিষ্যৎদ্রষ্টা লেখক সৈয়দ শামসুল হক

ছবি সৌজন্যে মামুন রশীদ চৌধুরী

১৯৭৯ সালের ঈদ সংখ্যা সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ‘নিষিদ্ধ লোবান’ নামের আশ্চর্য একটা উপন্যাস পড়েছিলাম সৈয়দ শামসুল হকের। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে উপজীব্য করে লেখা সেই উপন্যাসটি একাত্তরের বাংলাদেশের এক অনন্য দলিল।

শক্তিমান লেখকরা ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হন।

- Advertisement -

নিষিদ্ধ লোবানের লেখকও ছিলেন সেই অলৌকিক দ্রষ্টা।

পঁয়তাল্লিশ বছর আগেই সৈয়দ হক দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছিলেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে।

উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বিলকিসকে পা কিস্তানি পারভার্ট মেজর ফিজিক্যালি ধর্ষণের আগে মৌখিক যৌন সন্ত্রাস বা ধর্ষণ করতে থাকে। কিছুটা উদ্ধৃত করি। রেইপিস্ট মেজর বলছে অধিকৃত বিলকিসকে–

“[…আমি তোমায় সন্তান দিতে পারব। উত্তম বীজে উত্তম ফসল। তোমার সন্তান খাঁটি মুসলমান হবে, খোদার ওপর ঈমাণ রাখবে, আন্তরিক পা কিস্তানী হবে, চাওনা সেই সন্তান?

আমরা সেই সন্তান তোমাদের দেব, তোমাকে দেব, তোমার বোনকে দেব, তোমার মাকে দেব, যারা হিন্দু নয়, বিশ্বাসঘাতক নয়, অবাধ্য নয়, আন্দোলন করে না, শ্লোগান দেয় না, কমিউনিস্ট হয় না।

জাতির এই খেদমত আমরা করতে এসেছি।

তোমাদের রক্ত শুদ্ধ করে দিয়ে যাব, তোমাদের গর্ভে খাঁটি পা কিস্তানী রেখে যাব, ইস লামের নিশানা উড়িয়ে যাব। তোমরা কৃতজ্ঞ থাকবে, তোমরা আমাদের পথের দিকে তাকিয়ে থাকবে, তোমরা আমাদের সুললিত গান শোনাবে।…”

নিষিদ্ধ লোবান, ঈদ সংখ্যা বিচিত্রা ১৯৭৯ ]”

স্বাধীনতার তেপান্ন বছর পর আবারও পড়ছি সৈয়দ হকের সেই বিস্ময়কর উপন্যাসটি।

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent