
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমন্বয়ক এবং নাগরিক কমিটি তাদের পূর্ব ঘোষিত জুলাই প্রক্লেমেশন থেকে সরে এসেছে।
খুব সম্ভব সরকার থেকে এবং বিভিন্ন মহল থেকে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, এই ধরনের ঘোষণাপত্র একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং খুবই অপরিপক্ক মস্তিস্কপ্রসূত।
বিশেষ করে ” মুজিবাদী সংবিধানের কবর রচনা” অনিবার্য সংঘাত ডেকে আনতো।
কারন হচ্ছে, সংবিধানের কবর রচনার ঘোষণা দিলে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও অবৈধ হয়ে যাতো। আর এই সরকার অবৈধ হয়ে পড়লে তার রিপ্লেস হতো কিভাবে?
রিপ্লেস করার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমন্বয়কদের আরেকটি সরকারের ঘোষণা দিতে হতো। হয়ত তারা বর্তমানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই বিপ্লবী সরকার হিসাবে ঘোষণা দিতো কিংবা একেবারে নতুন সেট-আপে বিপ্লবী সরকারের ঘোষণা দিতে হতো।
সেটি হলে দেশ একটি অনিবার্য সংঘাতের দিকে যেতো।
কারন, রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ তাদের অধীনে কমান্ড মিনে নিতো কিনা সন্দেহ ছিল। বিশেষ করে তিন বাহিনী কি তাদের অধীনতা মেনে নিয়ে কাজ করতো? আমার তো মনে হয় না তিন বাহিনী তাদের অধীনে কমান্ড মেনে নিতো।
সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ , সচিবালয় ইত্যাদি রাষ্ট্রের যে সব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ আছে, তারা কি সেই বিপ্লবী সরকারের কমান্ড মেনে নিতো?
আমার তো মনে হয় না।
এই ধরনের ঘোষণাপত্র বর্তমান প্রেসিডেন্টকেও অকার্যকর করে তুলতো।
সেক্ষেত্রে বর্তমানের প্রেসিডেন্ট একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তো।কারন, এই প্রেসিডেন্টের পেছনে সেনা সমর্থন রয়েছে।
প্রেসিডেন্টকে নাড়াতে গেলে সেনাবাহিনীও নড়ে উঠতে বাধ্য হতো।
ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠতো।
প্রধান দল বিএনপিরও এই ধরনের ঘোষণায় সায় ছিল না। একটি বৃহৎ অংশকে বাদ দিয়ে এই ধরনের ঘোষণাপত্র খুবই শিশুসুলভ কাজ হতো।
আমার তো মনে হয় না বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমন্বয়করা এই সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েছিলো।
বিষয়ের গভীরে না গিয়ে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সেটি চরমভাবেই হঠকারী সিদ্ধান্ত হতো।
শেষ পর্যন্ত নানা পারিপার্শ্বিক চাপে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমন্বয়করা তাদের পূর্ব ঘোষণা থেকে পিছটান দিয়েছে।
সরকার এখন দুই কূল রক্ষা করার জন্য নিজেরাই নামকাওয়াস্তে একটি ছেলেভুলানো ঘোষণাপত্র দিবে।
এই ঘোষণাপত্রে মনে হয় না, সংবিধানের কবর রচনার মতো কোন ঘোষণা থাকবে। থাকবে না কোন বিপ্লবী সরকারের ঘোষণা।
অথচ সমন্বয়করা বলে বেড়াচ্ছে সরকার তাদের দাবী মেনে নেওয়ায় তাদের বিজয় হয়েছে।
আসলেই কি তাদের বিজয় হয়েছে?
প্রেসিডেন্টকে অপসারন করতে গিয়ে তারা ব্যর্থ হয়েছিলো।
এবারও তারা ঘোষণাপত্র দিতে গিয়ে ব্যর্থ হলো।
৩১ শে ডিসেম্বর কিছু ভাড়াটিয়া লোক সমাগম দেখিয়ে নিজেদের মান রক্ষার চেষ্টা নিতান্তই হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই হবে না।
স্কারবোরো, কানাডা
