
গতকাল ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর হাঁটা বাবার characteristic সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা পেলাম। তিনি জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে সিলেক্টিভ।
যেমন, গতকাল অনেক আগে থেকেই পিনাকী ভট্টাচার্য এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ঘোষণা দিয়েছিল ৩২ নম্বর গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী তারা বিশাল আকৃতির বুলড্রজার, ক্রেইন নিয়ে হাজির হয়েছিল। এই বুলড্রজার, ক্রেইন তো আর আকাশ পথে উড়ে আসে নাই। দীর্ঘ সড়ক পথ অতিক্রম করেই ৩২ নম্বরে পৌঁছেছে। তাই না?
সেনাবাহিনী ইচ্ছে করলে পুরো ৩২ নম্বর শিবির কর্মিরা( ছাত্র-জনতা নয়) আসার আগেই কর্ডন করে রাখতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং অরক্ষিত রেখে দিয়েছিল যাতে শিবির কর্মিরা বুলড্রজার, ক্রেন, দা-খুন্তি, বল্লম দিয়ে ৩২ নম্বর ভেংগে ফেলতে পারে।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরে এসে জাস্ট একটা ড্রামা করে দেখালো। তাদের চোখের সামনে ৩২ নম্বর ভাংগা হলো অথচ তারা ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নিয়ে নিরবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। কোন একশনে যায়নি।আর্মি এক্টে এই ব্যাপারে কি বলে? চুপচাপ দাঁড়িয়ে মজা দেখা? নাকি ব্যবস্থা নেওয়া? এই স্থাপনা রক্ষা করা কি তাদের দায়িত্ব ছিল না? ৩২ নম্বর বাদ দেন। যেকোন সাধারণ একটি বাড়ি রক্ষা করাও তো তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে! নয় কি?
অথচ এই একই সেনাবাহিনীর ভূমিকার বিপরীত চিত্র পাবেন যখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারন করার জন্য ছাত্র সমন্বয়করা বংগভবন ঘেরাও করেছিল। তখন দেখা গেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছিল যাতে একটি কাক পক্ষীও বেষ্টনী ভেদ করে প্রবেশ করতে না পারে।
তার মানে সেনাবাহিনী ইচ্ছে করলে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।
কথা হচ্ছে, হাঁটাবাবা আওয়ামী লীগ নিযুক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে রক্ষা করলেন কেন? কারন হচ্ছে, রাষ্ট্রপতিকে রক্ষার করার মধ্যে হাঁটাবাবার স্বার্থ ছিল। তিনি জানতেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ছাত্র সমন্বয়করা অপসারন কিংবা পদত্যাগে বাধ্য করতে পারলে একটি বিপ্লবী সরকার গঠিত হতো, আর বিপ্লবী সরকার গঠিত হলে তারা সংবিধানের কোন তোয়াক্কা করতো না। সেক্ষেত্রে হাঁটাবাবা হতেন বিপ্লবী সরকারের পরবর্তী টার্গেট। তারা হাঁটাবাবাকে বরখাস্ত করে নিজেদের মন মতো সেনাপ্রধান নিযুক্ত করতেন। এতে তাদের দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হতো।
তাদের সেই দুরভিসন্ধি হাঁটাবাবা বুঝতে পেরেছিলেন। এইজন্য রাষ্ট্রপতিকে রক্ষা করার জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছিলো।
এতে প্রমান হয়, সেনাবাহিনী ইচ্ছে করলে পারে।
ঠিক তেমনি সেনাবাহিনী ইচ্ছে করলে ৩২ নম্বর রক্ষা করতে পারতেন কিন্তু তারা সেটি করেননি।
তার মানে এই দাঁড়ায়, হাঁটাবাবা নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে সিলেক্টিভ।
কিন্তু আর্মি এক্ট কি বলে? সেখানে কি সিলেক্টিভ হবার সুযোগ আছে? নাকি সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে নিরাপত্তা দিতে হবে? সমানভাবে জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।
গতকালকের পর থেকে হাঁটাবাবার characteristic সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা পেলাম।
কিন্তু আপসোস , শেষ পর্যন্ত তিনি আম-ছালা সব হারাবেন।
কারন, ইতিহাস বলে রাষ্ট্র বেশিদিন অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা নিতে পারে না। রাষ্ট্র somehow নিয়ম এবং শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আসার জন্য পথ খোঁজে।
স্কারবোরো, কানাডা
